টম ক্রুজ নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য মাত্রায়। দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। এর মধ্যে কভিড-পরবর্তী সিনেমায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবচেয়ে বড় তারকা। কেবল তারকাই নয়, বক্স অফিসেরও ত্রাতা হয়েছিলেন ক্রুজ। টপ: গান ম্যাভেরিক আয় করেছিল ১০০ কোটি ডলারের বেশি। মিশন: ইম্পসিবল নিয়ে তাই আশা ছিল আরো বেশি। এমনিতেই এ ফ্র্যাঞ্চাইজি হলিউডের অন্যতম সফল সিনেমা-সিরিজ, কিন্তু এবার সে সাফল্য ধরে রাখতে পারলেন না ক্রুজ ও ক্রিস্টোফার ম্যাকুয়ের। সিনেমাটি পিছিয়ে পড়েছে বক্স অফিসে। এর পেছনে আছে বেশকিছু কারণ।

টম ক্রুজের মিশন: ইম্পসিবল-ডেড রেকনিং পার্ট ওয়ান মুক্তি পেয়েছে ১২ জুলাই। মূলত এখানেই ভুল করেছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স। কেননা ২১ জুলাই মুক্তির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ক্রিস্টোফার নোলানের ‘‌ওপেনহাইমার’। প্যারামাউন্ট বা ম্যাকুয়ের কেউ হয়তো এটা বেশি ভাবেননি, কেননা দুই সিনেমার দর্শকশ্রেণী ভিন্ন। কিন্তু সিনেমা যখন নোলানের তখন নড়েচড়ে বসাই উচিত ছিল। নোলানের সিনেমার মাত্র ৯ দিন আগে মিশন ইম্পসিবল মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতান্তই ভুল। সে কারণে মুক্তির এক মাস পার করার আগে সিনেমাটি আয় করেছে মোটের ওপর ৪৯ কোটি ৩০ ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, সামনের এক সপ্তাহে আরো ৭০ লাখ ডলার আয় করতে পারবে কিন্তু তারপর আয় খুব বেশি বাড়বে না। কেননা নোলানের সিনেমার দর্শক এখনো কমেনি।

ক্রিস্টোফার নোলানের ওপেনহাইমার মুক্তি পেয়েছিল ২১ জুলাই। সিনেমাটি খুব দ্রুত অনেক আয় না করলেও একটু একটু করে আয় বাড়াচ্ছে। এ পর্যন্ত আয় করেছে ৫৫ কোটি ডলারের বেশি। দর্শকের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, খুব না বাড়লেও কমছে না। নোলানের অন্যান্য সিনেমার মতো ওপেনহাইমারও ‘‌স্লো অ্যান্ড স্টেডি’ভাবে চলার মতো। এর মধ্যে দেখা গেছে দর্শক সিনেমাটি আইম্যাক্সে দেখতে পছন্দ করছেন। ফলে বেড়েছে আইম্যাক্সের শো। সেখানে জায়গা করে নিতে পারছে না মিশন ইম্পসিবল। 

ভিন্নভাবে দেখতে গেলে মিশন ইম্পসিবল ব্যর্থ সিনেমা নয়। টম ক্রুজের এ সিনেমা আমেরিকায় আয় করেছে ১৫১ কোটি ও এর বাইরে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি। কিন্তু টপ গান: ম্যাভেরিকের সাফল্যের কারণে আশা বেশি ছিল। সেখানেই ব্যর্থ হয়েছে সিনেমাটি। এ ছাড়াও মিশন ইম্পসিবলের যে হাইপ ছিল তাও বিলিয়ন ডলারের স্বপ্নই দেখিয়েছিল বক্স অফিসকে।

নোলানের ‌ওপেনহাইমারকে কারণ হিসেবে মনে হলেও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রেটা গারউইগের ‘‌বারবি’। টপ গান ম্যাভেরিকের পর সুপার মারিও ব্রোস মুভি এবং এরপর বারবি পার করল ১০০ কোটি ডলার। বারবির ঝড়ে ওপেনহাইমারও কিছুটা ব্যাকফুটে। মূলত প্যারামাউন্ট ওপেনহাইমারকে হিসেবে রাখলেও বারবির এ সফলতার সম্ভাবনা কেউই ভাবেননি। মোটের ওপর যদিও বক্স অফিসের জন্য বারবি সুসংবাদ এনেছে, টম ক্রুজের মিশনের সফলতা সেখানে থেমে গেছে। গত সপ্তাহে সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৬০ লাখ ডলার। বক্স অফিস বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সিনেমাটি ৬০ কোটি ডলার আয় করার আগেই তার মিশন থেমে যেতে পারে।

সূত্র: কোলাইডার