ছাত্রদের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এখন সময় সংস্কারের। সে আহ্বান ও আশাবাদ জানাচ্ছেন শিল্পীরা। যে শিল্পীরা শুরু থেকে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন তারা যেমন সংস্কারের কথা বলছেন, যারা ছিলেন না বা পরে যুক্ত হয়েছেন তারাও এ কথা বলছেন। ৫ আগস্টের পর ‘শুধু ভালোবাসাটুকু থাক আর সব মুছে যাক’ গানটি শেয়ার করে ফেসবুকে ব্যান্ড তারকা জেমস লেখেন, ‘জয় তরুণের জয়।’
কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা লেখেন, ‘সবাই দেশ ও দশের জানমালের হেফাজতে সচেষ্ট হোন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ শান্তি বজায় থাকবে।’
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী গতকাল তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আমি মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম কাজ হবে ৩২ নম্বরের বাড়ির পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা। এ বাড়িকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং এ বাড়ি সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি, স্মৃতিস্মারক যা যা পাওয়া যায় তা দিয়ে জাদুঘর আবার চালু করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ইউনূসের উচিত হবে নিজেই বাড়িটা ভিজিট করা। তিনি এ বাড়ি ভিজিট করলে একটা সিগনিফিকেন্স তৈরি হবে, একটা বার্তা দেবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য ভাংচুর করা হয়েছে। এগুলো সব ঠিকঠাক করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশের মন্দির থাকবে, মসজিদ থাকবে, প্যাগোডা থাকবে, গির্জা থাকবে, বোরকা থাকবে, জিনস থাকবে। সবকিছুই থাকবে বহুজনের এ সমাজে।’"
কণ্ঠশিল্পী অদিতি মহসিন লেখেন, ‘আমরা কেউ যেন বিশৃঙ্খল না হই। আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ভাইবোনদের আমরা পাহারা দেব। দেখে রাখব। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করব না!’
চিরকুট ব্যান্ডের প্রধান শারমিন সুলতানা সুমি জাতীয় সংগীত শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমার দেখা শ্রেষ্ঠ দেশ, আমার শোনা শ্রেষ্ঠ সংগীত, আমার চেনা শ্রেষ্ঠ তারুণ্য; বাংলাদেশ জিতলে, জিতে যাই আমরা।’
অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা তার প্রফাইলে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা মানে দায়িত্বশীলতা। নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়। ন্যায়বিচার ও সাম্যের দেশ গড়া। আমাদের সন্তানদের, ছাত্রদের ত্যাগের কথা যেন ভুলে না যাই।’
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা লিখেছেন, ‘১৯৫২, ১৯৭১, ২০২৪-এর সব শহীদকে সত্তায় ধারণ করে এখন পথ চলতে হবে ধীর পায়ে, শান্ত মননে! সত্য, সহমর্মিতা হবে আমাদের শক্তি!’
অভিনেত্রী শানারেই দেবী শানু লেখেন, ‘ইতিহাস যুগে যুগে দেখিয়েছে অস্ত্র দিয়ে আর যা-ই হোক, সময়কে বেঁধে রাখা যায় না, সময় চুপ থাকতে পারে না। সময় তার সময়মতো যুগে যুগে কথা বলেছে, নির্বাক হয়ে থাকা অভিমানেরাও স্লোগান হয়ে রাজপথে গর্জে উঠেছে। বাংলাদেশ তার আপন ছন্দে নতুন করে জেগে উঠুক। বাংলার মানুষ এবার একটু শান্তি চায়। আর কোনো হিংস্র রাজনীতির শিকার না হোক কেউ।’
নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন লিখেছেন, ‘বিজয় উৎসব করুন, কিন্তু যারা লুটপাট ও আগুন দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।’ নির্মাতা রায়হান রাফী লিখেছেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান, বিজয় উৎসব করুন, কিন্তু দেশের অনেক জায়গায় কিছু মানুষ লুটপাট ও আগুন দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।’
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আসছে শিরোনামহীন। নতুন বাংলাদেশের জন্য গান প্রকাশ করলেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন। মঙ্গলবার রাতে এ ব্যান্ডের ফেসবুক পেজ থেকে ‘কেনো’ শিরোনামে গানটি প্রকাশ করা হয়। ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এ গান এরই মধ্যে ভক্তদের মন ছুঁয়েছে।










