বিশ্বজুড়ে মহামারীর আঘাত এখনো কাটেনি। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় দেখেছে ২০২০ সালে। মহামারীর কারণে তারা মাত্র ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পেরেছে। গত বছরের মার্চ থেকেই উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়। আগস্টে কিছু এলাকায় হল খুললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে হলিউডের বড় ছবিগুলো একের পর এক মুক্তির তারিখে পিছিয়ে ২০২১-এ নিয়ে এসেছিল। ফলাফল ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০-এ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ৮০ শতাংশ আয় কমেছে। ২০১৯ সালে বক্স অফিসে আয় হয়েছিল ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম, দ্য লায়ন কিং এবং স্পাইডারম্যান: ফার ফ্রম হোম ছবিগুলো এ সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
মহামারীতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি। তারা এখন সরকারের সহায়তা চাইছে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে। কভিড-১৯ মহামারীতে ইউরোপের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, থিয়েটার, সংগীত খাতও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপিয়ান অথরস সোসাইটি জানিয়েছে, ইউরোপের ক্রিয়েটিভ সেক্টরের আয় ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ৩১ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে এ আয় ছিল ৭৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর ২০২০ সালে তা কমে হয়েছে ৫৪০ বিলিয়ন ডলার।
ইউরোপের সংগীত জগতে গত বছর আয় কমেছে ৭৬ শতাংশ। সিনেমার ক্ষেত্রে বক্স অফিসের আয় কমেছে ৭৫ শতাংশ। তবে একটি ইন্ডাস্ট্রি অবশ্য ভালো করেছে, সেটা ভিডিও গেমস। তাদের বিক্রি বেড়েছে ৯ শতাংশ।
ওপরের চিত্র প্রকাশ করে ইউরোপিয়ান অথরস সোসাইটি ইউরোপের অর্থনীতিতে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছে। তারা দেখিয়েছে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি থেকে, যা এ অঞ্চলের ফার্মাসিউটিক্যাল, অটোমোবাইল কিংবা টেলিযোগাযোগ খাতের চেয়ে বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে নির্দিষ্ট এজেন্সিগুলোর রয়্যালিটি কালেকশন ২০২০ সালে কমেছে ৩৫ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল আয় বাড়লেও তা বস্তুগত আয় হ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২০২০ সালে ইউরোপে সিডি ও রেকর্ড বিক্রি কমেছে ৩৫ শতাংশ, এর বিপরীতে ডিজটাল আয় বেড়েছে ৮ শতাংশ।
২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বক্স অফিসে আয় কমেছে ৬৯ শতাংশ। মহামারীতে সিনেমা হলগুলো বন্ধ থাকাতেই এ বিপর্যয়। অন্যদিকে হল খোলা থাকলেও ছিল নানা বিধিনিষেধ আর সর্বোপরি নতুন সিনেমাও তো ছিল না সে রকম। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার মোশন পিকচার ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন (এমপিডিএএ) জানিয়েছে, চলচ্চিত্র খাতে দেশটিতে বার্ষিক আয় ২০১৯ সালের ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে কমে ২০২০ সালে হয়েছে মাত্র ৪০১ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার। স্থানীয় ছবি ২০১৯ সালে আয় করেছিল ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা ২০২০ সালে কমে হয়েছে ১৭ মিলিয়ন।
জাপানের বক্স অফিসের খবরও ভালো নয়। ২০২০ সালে দেশটির বক্স অফিসে পতন হয়েছে ৪৫ শতাংশ। কারণ সেই একই। করোনা মহামারী। জাপানের মোশন পিকচার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০১৯ সালে জাপানের বক্স অফিসে রেকর্ড পরিমাণ আয় হয়েছিল—আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মহামারীর ধাক্কায় তা ৪৫ শতাংশ কমে গত বছর হয়েছে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার পরও দুনিয়ার অন্য বড় বক্স অফিসগুলোর তুলনায় জাপানের অবস্থাকে ভালো বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ দুনিয়ার বড় বক্স অফিসগুলোয় গত বছর আয় কমেছে ৫৭-৭৬ শতাংশ।
জাপানে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদেশী ছবিগুলো। দেশটিতে বিদেশী ছবির আয় কমেছে ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে মহামারীর বাজারেও শক্ত অবস্থান ছিল জাপানের নিজস্ব চলচ্চিত্রগুলোর। ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর তাদের আয় কমেছে ২৩ শতাংশ।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার ও ভ্যারাইটি










