খলচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে ফিরেছেন অক্ষয় খান্না। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ২০২৫ সাল তার জন্য নতুন এক মোড় নিয়ে আসে। এ বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ছাভা’ ও ‘ধুরন্ধর’—এ দুই ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। বিশেষ করে ধুরন্ধরে তার শক্তিশালী উপস্থিতি দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছবিতে খলচরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন অক্ষয় খান্না।

অথচ ক্যারিয়ারে নায়ক হিসেবে অভিনয়ের ব্যাপারে অক্ষয় খান্নাকে বিভিন্ন কথা হজম করতে হয়েছিল। অনেক আগে এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তার একক নায়ক হিসেবে করা ছবিগুলো অভিষেক বচ্চন বা হৃতিক রোশনের মতো তারকাদের তুলনায় কম সফল। ২০০৭ সালে নিজের সিনেমা ‘গান্ধী, মাই ফাদার’ মুক্তির ঠিক আগে প্রভু চাওলার সঙ্গে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে অক্ষয় খান্না বলেন, ‘একক নায়ক হিসেবে আমি কিছুটা সাফল্য পেয়েছি, সেটা আমি দেখেছি। কিন্তু ততটা নয়। তবে আপনি যেভাবে বলছেন, আপনি আসলে বলতে চাইছেন, যতক্ষণ না আমি আমির খান, শাহরুখ খান বা সালমান খানের মতো সফল হচ্ছি, ততক্ষণ আপনি আমাকে সফল বলে মানবেন না। এটা একটু অদ্ভুত চিন্তা।’

তিনি জানান, বিষয়টা এমন—যেন একজন ব্যবসায়ীকে জেআরডি টাটা বা ধীরুভাই আম্বানির সঙ্গে তুলনা করে বলা হচ্ছে। যতক্ষণ না সে তাদের মতো সফল হচ্ছে, ততক্ষণ সে সফল নয়। এর মাধমে ‘আমি সফল নই, এটাই বোঝাতে চান।’ কথাগুলো হাস্যোজ্জ্বলভাবেই বলেন অক্ষয়। এরপর সাক্ষাৎকারগ্রহীতা তাকে অভিষেক বচ্চন, জন আব্রাহাম ও হৃতিক রোশনের সঙ্গে তুলনা করেন এবং বলেন, ‘তারা অনেক একক নায়কপ্রধান ছবিতে অভিনয় করছেন এবং সাফল্যও পাচ্ছেন।’ তখন অক্ষয় খানিকটা পরাজয় মেনে নিয়ে আনন্দের সঙ্গেই বলেন, ‘সব নায়ক এগিয়ে, আমি এ দৌড়ে শেষজন।’

২০২৫ সালে এসে খলচরিত্রে অক্ষয় খান্নার অভিনয়ের সাফল্য সমসাময়িক বলিউড সিনেমায় অভিজ্ঞ অভিনেতাদের গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। চরিত্রনির্ভর অভিনয়ে তার শক্তি ও দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি এ সাফল্য অক্ষয় খান্নার ক্যারিয়ারে একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস