২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব পান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তারপর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিয়মিত দেখা যেতে থাকে বলিউডের ব্যবসাসফল সিনেমায়, পা রাখেন হলিউডেও। প্রবেশ করেন বলিউডের শীর্ষ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীর তালিকায়। স্বীকৃতি হিসেবে নামের পাশে যুক্ত হয় দেশী ও বিদেশী পদক। অথচ যে মিস ওয়ার্ল্ড জয়ের মধ্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কার উত্থান, তা নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাবেক মিস বার্বাডোস লেইলানি ম্যাককনি। তার দাবি, বিশ্বসুন্দরীর মুকুট প্রিয়াঙ্কার মাথায় উঠানোটা ছিল মূলত কারচুপির ফলাফল।
২০২২ সালের ৩ অক্টোবর মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭১তম আসর অনুষ্ঠিত হলো। বিজয়ী হয়েছেন ফিলিপিনো-আমেরিকান সুন্দরী বনি গাব্রিয়েল। তবে আসরটিতে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন অংশগ্রহণকারীরা। দাবি করা হচ্ছে বিজয়ী বনির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে আয়োজকদের। বিজয়ী ঘোষণার পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবি নিয়ে সে সন্দেহ আরো গভীর হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দশক আগের স্মৃতি তুলে আনলেন লেইলানি ম্যাককনি। ২০০০ সালের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় ৫০তম আসর অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীর মুকুট লাভ করেন ভারতের প্রিয়াঙ্কা। সে আসরে অংশগ্রহণ করেছিলেন ম্যাককনি নিজেও। তার দাবি, আয়োজকদের পক্ষ থেকে নানাভাবে সমর্থন পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। পেয়েছেন বিশেষ কিছু সুবিধা, যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। তখন আমি মিস বার্বাডোস। স্বাভাবিকভাবেই মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নাম লেখাই। কিন্তু সে বছর বিজয়ী হয় ভারত। মনে রাখা দরকার, তার আগের বছরেও ভারত বিজয়ী হয়েছিল। সেবারও স্পন্সর ছিল ভারতীয় ক্যাবল স্টেশন জিটিভি। স্পন্সরশিপের এ সুবিধার পুরো অংশটাই পেয়েছে ভারতীয় প্রতিযোগী প্রিয়াঙ্কা।’
ম্যাককনির দাবি অনুযায়ী কেবল প্রিয়াঙ্কাই সে আসরে সাঁতারের পোশাক ও সারং পরে পোজ দেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। অথচ বাকিরা সে সুযোগ পাননি। বৈষম্যের এখানেই শেষ না। ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য কেবল প্রিয়াঙ্কাই ব্যবহার করেছিলেন কিছু স্কিন টোন ক্রিম। অনুষ্ঠানের কোনো রিহার্সালে যেতেন না প্রিয়াঙ্কা। সকালের খাবার খেতেও যাননি। বরং খাবার পৌঁছে যেত তার বিছানায়। এশীয়দের মধ্যে শুধু তারই প্রেস কলের সুবিধা ছিল। এমনকি তার গাউনও ছিল সবার গাউনের চেয়ে সুন্দর। আয়োজকদের পক্ষ থেকে একচেটিয়া সুবিধা লাভ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। ম্যাককনির দাবি, প্রিয়াঙ্কাকে বিজয়ীর মুকুট পরানো হলে বাকি প্রতিযোগীরা এ বৈষম্যের জন্য মঞ্চ ছেড়ে চলে যায়। তখন সবাই জানত বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতায় কারচুপি হয়েছে। বুঝতে পেরেছিল বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়নি। এর পরই বিজয়ী প্রিয়াঙ্কা চলচ্চিত্র জগতে সফল ক্যারিয়ার শুরু করেন।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










