সম্প্রতি জয়া বচ্চন তার নাতনি নব্য নন্দর পডকাস্টে এসেছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন কন্যা শ্বেতা বচ্চন নন্দ। ত্রিমূর্তির আলোচনার বিষয় ছিল মডার্ন লাভ: রোম্যান্স অ্যান্ড রিগ্রেট। তারা আগের কালের ডেটিংয়ের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন। কথা বলেন প্রপোজিং গেম নিয়ে। জয়া বলেন, এখন যেমন ইনস্টাগ্রামে দেখানোর জন্য বড় করে প্রপোজ করা হয়, এমন আগে হতো না। ‌‘‌হাঁটু গেড়ে বসে আসলে কেউ প্রেম প্রস্তাব দেয় না’, এভাবেই তারা তাদের মত প্রকাশ করেন। এর পরেই নব্য প্রশ্ন করেন জয়াকে, অমিতাভ তাকে কীভাবে প্রপোজ করেছিলেন।

জয়া জানান, অমিতাভের জঞ্জির হিট হওয়ার পর তিনি ও অমিতাভ একটি ট্রিপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। জয়া ও অমিতাভের বিয়ে অক্টোবরে হওয়ার কথা। এ অবস্থায় অমিতাভ বচ্চনের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন জানান বিয়ে না করে তারা দুজন একত্রে কোনো ট্রিপে যেতে পারবে না। ‌সে সময় অমিতাভ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমরা অক্টোবরের আগেই বিয়ে করতে পারি কিনা।’ এমন সাদামাটাভাবেই কথাটা বলেছিলেন বিগ বি।  তারা ১৯৭৩ সালের জুনে বিয়ে করেন। তার বাবা তরুণকুমার ভাদুড়ী প্রথমে রাজি ছিলেন না। তিনি চাননি মেয়ে বিয়ে করে সন্তান নিয়ে কেবল ঘরকন্না করুক। তরুণ চাইতেন তার মেয়েরা স্বাবলম্বী হোক। নিজেদের মতো প্রতিষ্ঠিত হোক। পরে অমিতাভই তরুণকুমারকে রাজি করান। 

অক্টোবরে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ ছিল, সে সময় তার কাজের চাপ কম থাকার কথা। অমিতাভ কখনো চাননি তার স্ত্রী ৯-৫টা শিডিউলে কাজ করুক। জয়া বলেন,‌‌ সে খুবই স্পষ্টভাবে আমাকে বলেছিল, ‌‘‌কাজ তুমি অবশ্যই করবে। তবে আমি ৯-৫টা কাজ করা স্ত্রী চাই না। প্রজেক্ট বাছাই করে উপযুক্ত লোকের সঙ্গে কাজ করবে।’ তাদের বিয়েটাও খুব বড় করে হয়নি। নব্যও জানায় সে ছোট পরিসরে বিয়ে করতেই ইচ্ছুক। জয়া সে কথা শুনে বলেন, ‘‌এ প্রজন্মের প্রতি আমার উপদেশ হলো তোমরা তোমাদের ভালো বন্ধুটিকে বিয়ে করো। যাকে তোমার ভালো বন্ধু মনে হয় তাকে সেটা বলো, তারপর বিয়ের প্রস্তাব দাও। সমাজও তো এখন এভাবেই ভাবে।’

নব্যর পডকাস্ট হোয়াট দ্য হেল নব্যয় তিনি পুরুষদের কিছু দোষের কথাও তুলে ধরেন। ঠিক দোষ নয়, কোন কোন স্বভাব দেখে তাদের থেকে দূরে থাকা উচিত। জয়া বলেন, ‘‌সে যদি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে সেটা খারাপ। নারীকে বোঝাতে হবে যে সে-ই সেরা এবং একমাত্র সেরা মানুষ।’


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া