বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুদাকে সম্প্রতি দেখা গেছে ‘স্বতন্ত্র বীর সাভারকার’ সিনেমায় অভিনয় করতে। এ সিনেমা নির্মাণের জন্য অভিনেতা যেভাবে অর্থায়ন করেছেন, তাই নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের জনপ্রিয় একটি বিনোদন মাধ্যমের সঙ্গে। রণদীপ সিনেমাটি নিয়ে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং সে কারণেই অর্থায়নের জন্য তিনি হরিয়ানার পৈতৃক জমি বিক্রির কথা ভেবেছিলেন বলে জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তা করেননি। পরিবর্তে তিনি তার মুম্বাইয়ের সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।

সাক্ষাৎকারে রণদীপ তার পৈতৃক জমি বিক্রির কথা ভেবে হেসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পৈতৃক জমি বিক্রি করিনি, তবে আমি মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি।’ এ অভিনেতা আরো বলেন, ‘গ্রামে এত বেশি পরিমাণে জমিও ছিল না, যা দিয়ে আমি সিনেমা বানাতে পারতাম।’ তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি বনে জমি কিনেছেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে জীবন কাটাতে চান। 

রণদীপ বলেন, ‘আমার কাছে মুম্বাই বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় শহর।’ কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ‘এ শহর আমাকে সবকিছু দিয়েছে। কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমার পরিবারও এখানে থাকে।’ তাছাড়া রনদীপের স্ত্রীর সঙ্গেও তার মুম্বাই শহরেই প্রথম দেখা। 

সেই সঙ্গে নিজ গ্রাম হরিয়ানা নিয়েও বেশ আবেগপ্রবণ এ অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘হরিয়ানার এক অন্য রকম অনুভূতি। কিন্তু ওখানে মানুষ বদলে গেছে। যখনই আমি সেখানে যাই, তাদের সঙ্গে মুক্ত মনে মিশতে পারি না, কারণ মানুষ কেবল ছবি তুলতে চায়।’ তাই তিনি না জানিয়েই নিজ গ্রামে যান। 

আগে রণদীপ স্বতন্ত্র বীর সাভারকারের চিত্রগ্রহণের সময় যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, সে বিষয়ে কথা বলেন। ‘আমি এ সিনেমা গত বছরের ১৫ আগস্ট, তারপর ২৬ জানুয়ারি মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম। আমি সবকিছু প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি।’ 

কারণ হিসেবে রণদীপ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সিনেমার প্রজেক্টের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে মানসম্পন্ন ফিল্ম বানানোর ইচ্ছা ছিল না। তারা শুধু একটা ফিল্মই বানাতে চেয়েছিল। এছাড়া আর্থিক অসুবিধা ছিল। 

‘আমার বাবা সঞ্চয় করেছিলেন এবং মুম্বাই শহরে আমার জন্য দু-তিনটি ফ্ল্যাটও কিনেছিলেন। তবে আমি তা রক্ষা করতে পারিনি, সবগুলো বিক্রি করে দিয়েছি এবং সিনেমার অর্থায়নে কাজে লাগিয়েছি,’ বলেন রণদীপ। 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস