এক যুগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স। অ্যাভেঞ্জার্স শেষ করার পর থেকেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে মার্ভেলের সিনেমা। নতুন পরিকল্পনায় এগোচ্ছিল মার্ভেল। নারী চরিত্রের দিকে মনোযোগের পাশাপাশি নতুন ফেইজে ক্যাং দ্য কনকারারকে প্রধান খল চরিত্র হিসেবে বসানো হচ্ছিল। কিন্তু গোড়ায় গলদে ভুগছে মার্ভেল। তবে দোষটা তাদের নয়। সমস্যাটা তৈরি করেছে একটি ঘটনা। জোনাথন মেজর্সের গ্রেফতার এলোমেলো করে দিয়েছে সব হিসাব নিকাশ। ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের মামলা এখনো চলমান তার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় পরিবর্তন হয়েছে মার্ভেলের আসন্ন সিনেমা দ্য মার্ভেলসেও। নতুন করে কিছু অংশের দৃশ্যধারণ হচ্ছে এ সিনেমার। সম্প্রতি মার্ভেলের কর্মকর্তারাও বলছেন, তারা বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাচ্ছেন।
প্রতি বছর পাম স্প্রিংয়ে মার্ভেল তাদের নানা পরিকল্পনা জানায়। এ বছরও জানিয়েছে, কিন্তু কর্মকর্তাদের কণ্ঠে আগের সে আত্মবিশ্বাস নেই। ক্যাংকে মার্ভেলের প্রধান খল চরিত্রে বসানোর পরিকল্পনা ছিল এবং তা নিশ্চিত হতো লোকির সিজন ফিনালে দিয়ে। কিন্তু সে সুযোগ আসলে আর নেই। লোকির শেষ এপিসোড দেখে একজন জানিয়েছেন, ‘তাকে নিয়ে যেভাবে গল্প সাজানো হয়েছে ক্যাংকে ছাড়া কীভাবে মার্ভেল এগোবে, তা অনিশ্চিত।’
সিনেমায় এখনো মার্ভেল তাদের জনপ্রিয়তা কিছুটা ধরে রেখেছে, কিন্তু টেলিভিশন সিরিজে একদমই ব্যর্থ। ‘শি হাল্ক’ নিয়ে দর্শক বিরক্ত। স্যামুয়েল এল জ্যাকসনকে ফেরানো হয়েছে সিক্রেট ইনভ্যাশনে। কিন্তু নিক ফিউরির এ রূপ পছন্দ হয়নি দর্শকের। মার্ভেল তাই সবকিছু নিয়েই এখন দোটানায়। এর মধ্যে টেলিভিশন সিরিজ ‘মিস মার্ভেল’ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, কিন্তু সেটিকেও কাজে লাগাতে পারছে না মার্ভেল। কেননা মিস মার্ভেল ও ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ক্যাপ্টেন মার্ভেল’ ক্রসওভার করে নির্মিত ‘দ্য মার্ভেলস’ ট্রেলার প্রকাশের পরও যথেষ্ট সাড়া পায়নি। ১০ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা সিনেমাটির, কিন্তু এর মধ্যে এটি বেশ কয়েকটি ‘রি-শুট’-এর মধ্য দিয়ে গেছে।
মার্ভেলের মূল ব্যবসা হয়েছিল অ্যাভেঞ্জার্স দিয়ে। মূল ছয় অ্যাভেঞ্জার—‘আয়রন ম্যান’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’, ‘ব্ল্যাক উইডো’, ‘হাল্ক’, ‘থর’ ও ‘হক-আই’কেই দর্শক পছন্দ করেছে বারবার। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া আয়রন ম্যান আয় করেছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: অ্যান্ড গেম’ আয় করে ২৮০ কোটি ডলার। তার পরই ধস। এখন কি তবে অ্যাভেঞ্জার্সের কাছেই ফিরবে মার্ভেল?
অ্যাভেঞ্জার্সের কাছে ফেরা সহজ হবে না। কেননা আয়রন ম্যান চরিত্রে ফিরবেন না ডাউনি জুনিয়র। হাল্ক ফিরতে পারবে না গল্পে কারণে। ক্রিস হেমসওয়ার্থের কথা শুনে মনে হয় তিনিও লাভ অ্যান্ড থান্ডারের পর থর নিয়ে আগ্রহী নন। নতুন অভিনেতাদের দিয়ে চরিত্রগুলো করানো যায়, কিন্তু আগের মতো জনপ্রিয় হবে না।
মার্ভেলের এখন নজর আপাতত ‘ডেডপুল থ্রি’ ও ২০২৫ সালে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’-এর দিকে। মার্ভেল স্টুডিওর প্রধান কেভিন ফিজ ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। আশা করা যায়, তিনি মাঝপথে কোনো নিরীক্ষা করতে যাবেন না। কিন্তু দর্শকসহ অনেকেরই ধারণা মার্ভেলকে বাঁচাতে এখন আবার অ্যাভেঞ্জার্সকেই প্রয়োজন।
সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি










