গ্রেটা গেরউইগের হাসি সুন্দর। এ কথা দিয়েই একটি ফিচার শুরু করেছিল কোলাইডার। গ্রেটার দিকে তাকালে কেবল তার হাসি নয়, উপস্থিতিও সুন্দর বলে রায় দেয়া যায়। মূলত হলিউডের বর্তমান নারী নির্মাতাদের মধ্যে তিনি আসলেও সুন্দরী। অবশ্য নির্মাতা হওয়ার আগে তিনি অভিনেত্রীও ছিলেন। তাই চলন-বলনের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার আছে অভিনেত্রীসুলভ সৌন্দর্য। এত কথা বলার কারণ গ্রেটার সিনেমায়ও এ সৌন্দর্যের প্রকাশ দেখা যায়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বারবি। হলিউডে চলতি সময়ে সিনেমার ধারায় যেন নতুন রঙ লাগিয়েছেন তিনি। ক্রিস্টোফার নোলানের মতো তারকা-নির্মাতার সঙ্গে টক্কর দিয়েছেন গ্রেটা। জয়-পরাজয়ের কথা নেই, তবে গ্রেটা এগিয়ে আছেন অনেক দিক দিয়ে। প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি গ্রেটার এগিয়ে থাকা সম্ভব হয়েছে সিনেমায় গ্রেটার নিজস্বতার কারণে।

গ্রেটা গেরউইগের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। ‘‌ইয়াং আমেরিকান বডিজ’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজের মাধ্যমে। ২০২২ সালে ‘‌‌হোয়াইট নয়েজ’ সিনেমায় সঙ্গী নোয়াহ বামবাকের পরিচালনায় সর্বশেষ অভিনয় করেছেন তিনি। ফিচার, টেলিভিশন সিরিজ, স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা মিলিয়ে মোট অভিনয় করেছেন ৪২টি কনটেন্টে। এর প্রতিটি বিচিত্র ধারার। সিনেমায় তার উপস্থিতি ও অভিনয় প্রশংসিত। এর মধ্যে গত দশকের শুরুতে নোয়াহ বামবাকের ‘‌গ্রিনবার্গ’ দিয়ে আলোচনায় আসেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে রম-কম ও ইন্ডি সিনেমায় তাকে বেশি দেখা গেছে। তবে প্রতিটি চরিত্রে তিনি মন ভালো করা উপস্থিতি রেখেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালিত সিনেমায়ও এ ধারা দেখা যায়। সিনেমাগুলো অনেকটা ইয়াং-অ্যাডাল্ট কিংবা কামিং অব এজ। এর মধ্যে আবার উনিশ শতকের উপন্যাস থেকেও সিনেমা নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সে সিনেমাও এ সময়ের দর্শকের জন্য। তাজা একটা ভাব আছে গ্রেটার সিনেমায়। এর পরিচয় অবশ্য পাওয়া যায় সিনেমার চরিত্রদের নির্বাচন তথা কাস্টিংয়ের মধ্যে। তার দুটো সিনেমায় (লেডি বার্ড, লিটল উইমেন) অভিনয় করেছেন টিমোথি শ্যলামে। লেডি বার্ড সিনেমায় কাইলি শিইবেল গ্রেটার সিনেমার অন্যতম প্রশংসিত চরিত্র। ২০০৮ সালে নিজের নির্মাণ অভিষেক ‘‌নাইটস অ্যান্ড উইকএন্ড’ সিনেমায় তিনি নিজে অভিনয় করেছিলেন ম্যাটি চরিত্রে। এ সিনেমায় ম্যাটির চরিত্রও দর্শকের পছন্দ। লিটল উইমেন সিনেমায় এমা ওয়াটসনকে তিনি এনেছিলেন মেগ চরিত্রে। এমার পাশাপাশি ফ্লোরেন্স পিউকেও অ্যামি চরিত্রে দর্শক ভালো বেসেছিল।

গ্রেটার বিশেষত্ব যেকোনো বিষয়কে নিজের মতো করে দেখানো। তিনি নিজেও বলেছেন, ‘‌সিনেমা নির্মাণে আমি নিজের জীবন থেকে প্রেরণা নিই।’ এ প্রেরণার কারণেই গ্রেটার সিনেমা স্বকীয় হয়ে ওঠে। তার স্বীকৃতি হিসেবে গ্রেটার দুটি সিনেমা (লেডি বার্ড ও লিটল উইমেন) একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে একটি (১১টি নমিনেশন), বাফটায় একটি (আটটি নমিনেশন) ও দুটি বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব (ছয়টি নমিনেশন) জিতেছে।

সূত্র: কোলাইডার