যেন রূপকথা নির্মাণ হচ্ছে বক্স অফিসে। যেন জাদু ছড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক শন লেভি। রায়ান রেনল্ডস ও হিউ জ্যাকম্যানকে নিয়ে নির্মিত তার চলচ্চিত্র ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ একের পর এক অতিক্রম করছে মাইলফলক। সে যাত্রায় সর্বশেষ মুকুট হলো সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল আর-রেটেড সিনেমার তকমা। 

ডেডপুলের এবারের কিস্তি বৈশ্বিক বক্স অফিস থেকে ১০৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার তুলে নিয়েছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকেই আয় দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার; আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার অতিক্রম করেছে। এর মধ্যেই টড ফিলিপসের ‘জোকার’কে পেছনে ফেলেছে সিনেমাটি। জোয়াকিম ফিনিক্স অভিনীত জোকার সিনেমার আয় ছিল ১০৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর বাইরে আর কোনো আর-রেটেড সিনেমা শতকোটি ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পারেনি। 

ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিনের পর সেরা আর-রেটেড সিনেমার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’। শতকোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারলেও ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বক্স অফিস থেকে ৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ঝুলিতে তুলে নেয়। তালিকায় পরবর্তী ধাপে রয়েছে যথাক্রমে ‘ডেডপুল টু’ ও ‘ডেডপুল’। অর্থাৎ প্রথম পাঁচেই রয়েছে ডেডপুলের তিনটি চলচ্চিত্র। 

ডেডপুলের তৃতীয় কিস্তি রেনল্ডসের ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত সংযোজন। পাশাপাশি মার্ভেল স্টুডিওর জন্যও ছিল নতুন প্রাপ্তি। স্টুডিওটির কোনো সুপারহিরো ঘরানার সিনেমা প্রায় আড়াই বছর পর শতকোটি ডলার আয়ের রেকর্ড তৈরি হলো। এর আগে স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম শেষবার শতকোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছিল, সেটাও আড়াই বছর আগে। 

ডেডপুলের শতকোটির তালিকায় ঢুকতে সময় লেগেছে মাত্র ১৯ দিন। এর আগে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ শতকোটির তালিকায় ঢুকেছিল ‍ন্যূনতম পাঁচদিনে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ শতকোটি ডলার আয় করে ১১ দিনে এবং ‘স্পাইডারম্যান’ শতকোটি ডলার ঝুলিতে তুলে ১২ দিনে। 

ডিজনির ৩১তম সিনেমা হিসেবে শতকোটির ঘর অতিক্রম করল। সেদিক থেকে ডিজনির জন্য একই বছরের দ্বিতীয় শতকোটি আয় করা সিনেমা এটি। এর আগে ‘ইনসাইড আউট টু’ ১৬০ ডলার আয় করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা অ্যানিমেটেড সিনেমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিজনি ছাড়া হলিউডের আর কোনো স্টুডিও এভাবে একের পর এক শতকোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শের খবর উপহার দিতে পারেনি। 

এদিকে ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন ভেঙে ফেলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম দুই কিস্তির রেকর্ড। বক্স অফিস বিশ্লেষকরা এরই মধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, সিনেমাটি বক্স অফিস থেকে ১২০-১৩০ কোটি ডলার আয় করতে পারে।

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার্স