বর্তমানে ভারতীয় টেলিভিশন পর্দায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত তারকা রূপালী গাঙ্গুলী। তিনি ভারতে সবচেয়ে বড় ধারাবাহিক ‘অনুপমা’য় অভিনয় করছেন। এ ধারাবাহিকের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয়দের প্রিয় বধূ অনুপমা। ধারাবাহিকটি রূপালী গাঙ্গুলীকে আরো বেশি দর্শকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। তবে পর্দায় তার শুরু এত মসৃণ ছিল না। মাত্র ৫০ টাকা পারিশ্রমিকে অভিনয়ে যাত্রা হয়েছিল রূপালীর। 

বাবা অনিল গাঙ্গুলী একজন সিনেমা পরিচালক ছিলেন। সব ব্যক্তিগত অর্থ তিনি সিনেমা পরিচালনায় খরচ করে ফেলেছিলেন। যদিও ধর্মেন্দ্র অভিনীত সিনেমা ‘দুশমন-দেবতা’সহ বেশকিছু সিনেমা তিনি নির্মাণ করেছিলেন। তবে সিনেমাগুলো নির্মাণে বাইরের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় অনিলদের পারিবারিক সম্পদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি অতিরিক্ত মানসিক চাপে অনিল গাঙ্গুলী সে সময়ে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পারিবারিক আর্থিক সংকটে রূপালী গাঙ্গুলী থিয়েটার করা শুরু করেন। অনেক সময়ই টাকা বাঁচাতে তিনি প্রায় ১৫ কিলোমিটার হেঁটে থিয়েটারে যেতেন। ভারতীয় জনপ্রিয় বিনোদনমাধ্যম ম্যাশেবল ইন্ডিয়ার সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন,"‘আমার প্রথম ধারাবাহিক প্রযোজক দীনেশ ঠাকুরের আত্মকথা: পৃথ্বী। আমাকে ৫০ টাকা দেয়া হয়েছিল পারিশ্রমিক হিসেবে এবং মাঝে মাঝে আমি একটি সিঙ্গাড়াও পেতাম। আমার জন্য ওই টাকাটাই ছিল অনেক।’ 

এ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তিনি মুম্বাইয়ের অরলি থেকে জুহু পর্যন্ত হেঁটে যেতেন। সে রূপালী গাঙ্গুলীই এখন ভারতের টিভি তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে রূপালী গাঙ্গুলীর পারিশ্রমিক ৩ লাখ রুপি, আগে যা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অনুপমা ধারাবাহিকের দুর্দান্ত সাফল্যের ফলে এ অভিনেত্রী তার পারিশ্রমিক পূর্বের থেকে দ্বিগুণ করেছেন। যদিও তিনি বাবা অনিল গাঙ্গুলীর পরিচালিত সিনেমা ‘‌সাহেব’ (১৮৮৫)-এর মধ্য দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে যাত্রা করেছিলেন। তবে জাতীয় পরিচিতি পেয়েছেন কমেডি ধারাবাহিক ‘‌সারাভাই’ (২০০৪) এবং ধারাবাহিকের দ্বিতীয় অংশ ‘‌সারাভাই বনাম সারাভাই’-এ মনীষা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। 

সূত্র: ডিএনএ ইন্ডিয়া