বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় ওটিটি প্লাটফর্ম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে দর্শক ঘরে বসেই অনলাইনে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখতে পারে। সারা বিশ্বেই প্রশংসা কুড়াচ্ছে ওটিটি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ওটিটি প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, এইচবিও ম্যাক্স, ডিজনি প্লাস ইত্যাদি। আমাদের দেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ওটিটি প্লাটফর্ম। বায়োস্কোপ, চরকি, বিঞ্জ, সিনেবাজ বিভিন্ন ওটিটি প্লাটফর্মের আগমন দেশীয় দর্শকের রুচির পরিবর্তনকেই ইঙ্গিত করে। এছাড়া ভারতীয় কয়েকটি ওটিটি যেমন হইচই, জিফাইভ গ্লোবাল বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে কনটেন্ট নির্মাণ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বজুড়ে ওটিটি প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে করোনাকালে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বলা যায়, মহামারী ওটিটি প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২০ সাল ছিল পুরো বিশ্বের কাছেই অন্য রকম অভিজ্ঞতার। মহামারীর কারণে প্রায় পুরো বিশ্ব বিভিন্ন সময়ে লকডাউন বা কোয়ারেন্টিনে কাটিয়েছে। এ সময়টা মানুষ ঘরে বসেই সময় পার করেছে। তাই নিজেদের ব্যস্ত রাখতে ওটিটিতে অনেক সময় ব্যয় করেছে। মুভি থিয়েটার, শপিং মল ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় মানুষ অনেকটাই নির্ভর হয়ে পড়ে ওটিটির ওপর। হুড়হুড় করে বেড়েছে ওটিটি প্লাটর্ফম ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
নেটফ্লিক্স ও অন্যান্য ওটিটি প্লাটফর্ম কোয়ারেন্টিন চলাকালে বিনোদনের একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছিল। জরিপে দেখা গিয়েছে, ২০২০ সালে মাত্র তিন মাসে যুক্তরাজ্যে ১৭ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে ওটিটি প্লাটর্ফমের সঙ্গে।
আইবিইএফের তথ্যমতে, ভারতে খুব দ্রুত বাড়ছে ওটিটি প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ২০২০ সালেই ভারতে ৩০ শতাংশ বেড়েছে ওটিটি প্লাটর্ফম ব্যবহারকারীর সংখ্য, ২২ লাখ থেকে ২৯ লাখে পৌঁছেছে।
উন্নত ব্যবস্থায় এখন প্রায় সব দুর্গম অঞ্চলের মানুষ পাচ্ছে ইন্টারনেট সেবা। এতে তারাও যুক্ত হচ্ছে ওটিটি প্লাটর্ফমের সঙ্গে।
ওটিটি প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়েব পোর্টাল ম্যাজসিস্টেমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ওটিটির বাজারমূল্য ২১ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। বিনোদনের এ মাধ্যম এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক। তাই ভবিষ্যতে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে ওটিটিকে। শুধু তা-ই নয়, নিজেদের টিকিয়ে রাখতে আর দর্শকের চাহিদা পূরণে সময়োপযোগী মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরিতে জোর দিতে হবে।
মহামারীর কারণে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সুযোগ না থাকলেও ওটিটি ঘরে বসেই নতুন সিনেমার স্বাদ নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বর্তমানে ওটিটির জনপ্রিয়তা বাড়ায় কোটি টাকা বাজেটের সিনেমাও এখানে দেখা যাচ্ছে। আর স্বল্প বাজেটের সিনেমা মুক্তি লেগেই আছে।
ভবিষ্যতে ওটিটি প্লাটর্ফম এগিয়ে যাবে বলেই মনে করেন অনেকে। ভবিষ্যতে আয়ের সুযোগ থেকেই এরই মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওটিটি প্লাটর্ফম নিয়ে এসেছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেই ওটিটি প্লাটর্ফম ব্যবহার করা যায়। সহজ ব্যবহার আর পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ওটিটির জনপ্রিয়তা। দর্শকরা সচেতন, তারা এখন মানসম্পন্ন কনটেন্ট দেখতে চায়। টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত ভালো কনটেন্ট তৈরি করছেন নির্মাতারা।
অন্যদিকে আঞ্চলিক দর্শক টানতে বেশ সচেতন ওটিটি প্লাটফর্মগুলো। তারা অঞ্চল অনুযায়ী দর্শকের চাহিদা আর পছন্দকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা ছাড়াও অঞ্চলভেদে মানুষের আয়ের ওপর নির্ভর করে তারা প্যাকেজ চালু করেছে। কম আয়ের মানুষের জন্য জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ তৈরি করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে তারা।
যদি সময়ের সঙ্গে কাজের মান বজায় রেখে ওটিটি প্লাটর্ফম এগিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদনমাধ্যমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।










