এ প্রজন্ম সেলিম খানকে সালমান খানের বাবা হিসেবেই বেশি চেনে। কিন্তু বলিউড ইতিহাসে তিনি কিংবদন্তি স্ক্রিপ্ট রাইটার। জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার বহু যুগ্ম চিত্রনাট্য থেকে বক্স অফিস তোলপাড় করা সিনেমা নির্মিত হয়েছে। বিশেষত, তাদের সিনেমায় দেয়া ‘‌অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ থিমটি দারুণ কাজ করেছিল। অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র থেকে অন্যান্য অভিনেতাদের ইমেজ বদলে গিয়েছিল তার স্ক্রিপ্টে অভিনয় করে। সত্তরের পুরো দশকে সেলিম-জাভেদ একটা ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছিল। আন্দাজ, সীতা অওর গীতা, জঞ্জির, ইয়াদো কি বরাত, দিওয়ার, ত্রিশূল, ডনের মতো সিনেমা এসেছিল সেলিম-জাভেদের হাত ধরে। কিন্তু এই সেলিম খানই তার সুপারস্টার পুত্র সালমান খানের জন্য সিনেমার চিত্রনাট্য লেখেন না।

সেলিম খান নতুন করে চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করতেই পারেন। কিন্তু সেভাবে তিনি করেন না। এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‌কারো কাছে চিত্রনাট্য নিয়ে গেলে তারা ভাববে আমার কাছে এত ভালো স্ক্রিপ্ট থাকতে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে কেন সে চিত্রনাট্যে সিনেমা নির্মাণ করছি না!’ এমন কথা তিনি প্রযোজকদের কাছ থেকে শুনেছেনও। সেলিম খানের চিন্তা হলো সালমানের সঙ্গে একাধিক বা বেশকিছু সিনেমা নির্মাণ করাটা ঝুঁকি হয়ে যাবে। সিনেমা হিট হলে সমস্যা নেই কিন্তু ফ্লপ হলে তা নিয়ে নেতিবাচক কথা হবে। তিনি বেশ মজা করে এ কথার জবাব দেন, বলেন, ‘‌হিট হয়ে গেলে সিনেমা তার (সালমানের) কিন্তু ফ্লপ হলে বাপের বদনাম হবে!’সেলিম খান এ সময় তার নিজের জীবন ও পরিকল্পনা সম্পর্কেও অনেক কথা বলেন। তার যৌবনেই বেশ কয়েকবার তিনি কাজ ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবতেন। কাজ থেকে অবসর নিয়ে অবকাশ যাপন, আনন্দ উদযাপনের ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পাঁচ সন্তানের জনক হয়ে তার কাজ পাঁচগুণ হয়েছিল। তিনি আফসোস করে বলেন, ‌‘‌সব কাজের জন্য এরা বাবার কাছে আসত। গাড়ির পেট্রল শেষ হয়ে গিয়েছে, বাবার কাছে চাও। আরে, পেট্রলের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? গাড়ি নষ্ট হলেও আমাকেই ডাকে। এটা সেটা, ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ আসত আর সেসব সামলাতে হতো আমাকে। রাত ১১টার সময় একে তাকে ফোন করে সমস্যা সমাধান করতে হতো। এরপর আর সময় থাকে কোথায়? পরে একসময় লেখাই ছেড়ে দিলাম।’

এসব ব্যস্ততার মধ্যেই সেলিম খানের মনে হয়েছিল তিনি আগের মতো লিখতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘‌আমার মনে হয়েছিল এরপর আর প্রফেশনালি কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। যতটা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ আগে করতে পারতাম, তা আর সম্ভব নয়। তাই মনে হলো আমি এবার ছেড়েই দিই।’

এই ছেড়ে দেয়ার আগে বলিউডকে তিনি উপহার দিয়েছেন বেশকিছু হিট চিত্রনাট্য-কালা পাত্থার, দোস্তানা, শান, ক্রান্তি। তালিকায় আছে মিস্টার ইন্ডিয়াও। গল্প, সংলাপ ও চিত্রনাট্যের জন্য তিনবার ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন (১৯৭৩, ১৯৭৫ ও ১৯৮২ সালে)। ২০১৪ সালে তাকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হলেও নিজেকে পদ্মভূষণের যোগ্য দাবি করে পদ্মশ্রী প্রত্যাখ্যান করেন সেলিম আবদুল রশীদ খান।


সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস