বলিউড টেরই পায়নি কবে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিল। অনেকে এখন বলতে শুরু করেছেন পরিচালনা, অভিনয়শিল্পী, টেকনিশিয়ান—সবক্ষেত্রেই মুম্বাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়ে আছে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রি। মুম্বাইয়ের অভিনেতা, প্রযোজকরা ঘুরছেন হায়দরাবাদের পরিচালক ও শিল্পীদের পেছনে। পরিবর্তনটা বড় আকারে শুরু হয় ২০১৫ সালে বাহুবলি ও ২০১৭ সালে বাহুবলি টু মুক্তির মধ্য দিয়ে। ছবি দুটো বক্সঅফিসে হাজার কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রির ছবি হয়ে সারা ভারতে জনপ্রিয় হয়েছি ছবি দুটো। বাহুবলির মাধ্যমে ছবির নায়ক প্রভাস সর্বভারতীয় তারকায় পরিণত হয়। একই সঙ্গে খ্যাতি পান পরিচালক এসএস রাজমৌলিও। ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে প্রভাসের খারাপ ব্যবসা করা ছবি সাহো (২০১৯) হিন্দি বক্সঅফিসে ১৫০ কোটি রুপি আয় করেছিল। প্রভাস এখন এক ছবিতেই পারিশ্রমিক চাইছেন ১০০ কোটি রুপি।
রিমেক নির্মাণে বলিউড সবসময়ই নির্ভর করেছে তামিল ও তেলেগু ছবির ওপর। শহিদ কাপুর থেকে রণবীর কাপুর—বলিউডের বড় তারকারা এখন প্রেরণা খুঁজছেন তেলেগু ছবি থেকে। তেলেগু হিট ছবি জার্সি (২০১৯) রিমেকে কাজ করছেন শহিদ কাপুর। ছবির পরিচালক থাকছেন একই—গৌতম তিন্নানুরি।
সন্দীপ রেড্ডি বিরাট সাফল্য পেয়েছেন অর্জুন রেড্ডি (২০১৭), কবির
সিং (২০১৯) ছবি দুটো দিয়ে। তিনি এখন রণবীর কাপুরকে নিয়ে বানাচ্ছেন অ্যানিমেল।
প্রভাসের ছবি রাধে শ্যাম নির্মিত হচ্ছে সত্তরের দশকের ইউরোপের প্রেক্ষাপটে। ছবিতে তার বিপরীতে আছেন পূজা হেগড়ে। আরো বড় বাজেটের ছবি আদিপুরুষে প্রভাসের সঙ্গে দেখা যাবে সাইফ আলী খান ও কৃতি শ্যাননকে। ছবিতে প্রভাস রাম, সাইফ আলী খান রাবণ ও কৃতি শ্যানন সীতার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। রাজমৌলির পরবর্তী ছবি আরআরআর-এ দেখা যাবে রামচরণ ও আলিয়া ভাটকে।
কভিড মহামারীর কালেও নির্মাতাদের জন্য হায়দরাবাদ বেশ জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল—স্টুডিও, টেকনিশিয়ান, অভিনেতা-অভিনেত্রী সবই আছে সেখানে। এছাড়া তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশে আছে ২ হাজার ৮০০টি বড় পর্দা এবং হলে গিয়ে সিনেমা দেখার জমজমাট সংস্কৃতি।
প্রভাসের প্রভাব কেন বাড়ছে? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে ভারতীয় সমালোচকরা বলেছেন, মুম্বাইয়ের শিশুসুলভ পুরুষ নায়কদের বিপরীতে প্রভাস আশির দশকের পুরুষালি তারকাদের মতো। উত্তর প্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্যে তিনি জনপ্রিয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










