মুম্বাইয়ের সাবেক এনসিবি জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে দ্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ অনুসারে, সমীর আরিয়ান খানের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের কাছে ২৫ কোটি রুপি ঘুস দাবি করেছিলেন। এ-বিষয়ক সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় এরই মধ্যে তদন্ত চলছে। তাদের এফআইআরের ভিত্তিতেই ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে দ্য প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) আইনে মামলা দায়ের করেছে ইডি। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) কয়েকজন কর্মকর্তাকেও তলব করা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে।
গত বছর মে মাসে ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। শাহরুখ খানের কাছে তিনি ২৫ কোটি রুপি দাবি করেন আরিয়ান খানকে ছেড়ে দেয়ার শর্ত হিসেবে। সিবিআইয়ের পর এখন আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ইডির নজরে পড়লেন সাবেক এনসিবি অফিসার। যদিও ইডি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে জানার পরই সমীর বোম্বের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যাতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হয়, সে আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে আরিয়ানের মামলায় সমীর ওয়াংখেড়ে ছাড়াও অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন এনসিবির সাবেক এসপি বিশ্ববিজয় সিং, অফিসার আশিষ রঞ্জন, কিরণ গোসাভি ও সানভিল ডিসুজা। সবাইকে সিবিআই এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ মনে করছেন তদন্তসংশিষ্টরা। মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা নবাব মালিক সমীরের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূতভাবে বলিউড তারকাদের ফোন ট্যাপ করার অভিযোগ এনেছিলেন। মাদক মামলায় আরিয়ান খানকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধেই উঠেছে একের পর এক অভিযোগ। ওয়াংখেড়ে অবশ্য বারবার দাবি করে এসেছিলেন, প্রভাবশালী শাহরুখ-পুত্রকে গ্রেফতারের পর থেকেই মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
২০২১ সালের ২ অক্টোবর মাদককাণ্ডে মুম্বাইয়ে বিলাসবহুল ক্রুজ অভিযান চালিয়ে শাহরুখ পুত্র আরিয়ানকে আটক করে সমীর ওয়াংখেড়ের নেতৃত্বে এনসিবির একটি দল। পরের দিন ৩ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় আরিয়ানকে। ২৬ দিন জেলে থাকার পর মুক্তি পান আরিয়ান। আর তার পর থেকেই খবরের শিরোনাম যেন পিছু ছাড়ছে না মুম্বাইয়ের তৎকালীন এনসিবিপ্রধানের।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










