প্রয়াত শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওলের। প্রায়ই কথা হতো তাদের। এ নিয়ে বলতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র বলেন, লতাজি অনেক একা ছিলেন। শেষ দিকে তিনি একাকিত্ব থেকে পালাতে চাইতেন প্রতি সময়ে। সম্প্রতি লতার সঙ্গে নিজের কিছু স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন ধর্মেন্দ্র দেওল। তিনি বলেন, ‘যখন আমি জানলাম, আমার আনপাধ সিনেমার জন্য একটি গান লতা গাইবেন, আমি বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম, যা বলা যাবে না। আমি কয়েকজনকে সে সময়ে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম যে আমার জন্য লতা দিদি গান গাইবেন। আমি মেহবুব স্টুডিওতে গিয়েছিলাম তার গান রেকর্ডিং দেখতে। খুবই ভালো লেগেছিল তার সঙ্গে কথা বলে। আমরা দুজন বেশ সময় নিয়ে কথা বলেছিলাম। এরপর সময়ের সাথে লতা দিদির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো হতে থাকে। আমরা প্রায়ই কথা বলতাম। কয়েক বছর আগেই তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে পালিয়ে যেতে চাইছেন।’
ধর্মেন্দ্র আরো বলেন, মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে লতা মঙ্গেশকরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেয়ার জন্য তিনি তিনবার প্রস্তুত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষে আর যাওয়ার সাহস করতে পারেননি। লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুর দিন সামাজিক মাধ্যমে লতার সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। লতাকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা আপনাকে মিস করব লতাজি, আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
লতাও ধর্মেন্দ্রর বেশকিছু গানে কাজ করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে কাল কি হাসিন মুলাকাত কে লিয়ে, গির গায়া ঝুমকা গিরনে দো, ঝিলমিল সিতারোঁ কা অঙ্গান হোগা এর মতো কয়েকটি সেরা গান।
১৯৪১ সালে রেডিওতে দুটি গান রেকর্ড করেন লতা। তবে তার বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এ শিল্পী। ৩০টিরও বেশি ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন লতা। তার প্রথম রেকর্ড করা গানটি ছিল মারাঠি সিনেমার জন্য। তবে সে গান সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায়। আপ কি সেবা মে সিনেমায় গলা মেলানোর মধ্য দিয়ে হিন্দি সিনেমায় যাত্রা করেন। ১৯৪৮ সালের দিকে প্রযোজক শশধর মুখোপাধ্যায়ের সিনেমা শহীদ-এ গান গেয়েছেন এ শিল্পী। এ সিনেমায় ‘দিল মেরা তোড়া’ গান দিয়ে দর্শকদের জনপ্রিয়তা পান লতা।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০১ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্ন অর্জন করেছিলেন তিনি। পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণের মতো পুরস্কারও আছে তার ঝুলিতে। এছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন লতা মঙ্গেশকর। করোনাভাইরাস সেরে গেলেও নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান এ কিংবদন্তি শিল্পী।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










