ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী চিত্রকর বিবেচনা করা হয় অমৃতা শেরগিলকে। একই সঙ্গে ভারতীয় আধুনিক চিত্রকরদেরও তিনি অন্যতম। তিনি তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ডেনিজে পুতোঁর তিনটি ছবি এঁকেছিলেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে দুটি দিল্লির ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্টে ঝোলানো আছে। একটি হারিয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। কিন্তু সম্প্রতি অমৃতার আঁকা পুতোঁর আরেকটি ছবি খুঁজে পাওয়া গেছে। ছবিটি ৯০ বছর ধরে মানুষের চোখের আড়ালে। ১৭ মার্চ নিউইয়র্কে ক্রিস্টিজ সাউথ এশিয়ান মডার্ন অ্যান্ড কন্টেম্পোরারি আর্ট সেলে নিলামে উঠবে ছবিটি।
অমৃতা শেরগিল প্যারিসে পড়াশোনা করার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় শিল্প সমালোচক ও লেখক পুতোঁর সঙ্গে। স্বামীকে পাঠানো অনেক চিঠিতে পুতোঁ তার বন্ধু অমৃতার কথা লিখেছেন। এসব চিঠির সূত্র থেকে ক্রিস্টিজ নিশ্চিত হয়েছে যে ছবিটি আঁকা হয়েছিল ১৯৩২ সালে এবং ‘রুশ শৈলী’তে। অমৃতা যখন ছবিটি আঁকেন তখন তার বয়স ১৯ বছর। এর এক বছর পর অমৃতাকে প্যারিসের গ্র্যান্ড স্যালোনে একজন সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, যা একজন বিদেশী ও নারী শিল্পীর জন্য ছিল দুর্লভ সম্মান।
পুতোঁর মৃত্যুর পর ছবিটি ছিল তার ছেলের কাছে। এরপর ব্যক্তি পর্যায়ে দুবার হাতবদল হয়। ছবিটি সবসময়ই ফ্রান্সে ছিল। ক্রিস্টিজের দক্ষিণ এশীয় আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্প বিশেষজ্ঞ নিশাদ আভারি জানান, গত বছর ছবিটি তাদের নজরে আসে। তিনি বলেন, ‘অমৃতা শেরগিলের চিত্রকর্ম সচারচর বাজারে পাওয়া যায় না। বিশেষত ভারতের বাইরে। বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত এবং প্রায় শতাব্দীকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা অমৃতা শেরগিলের একটি চিত্রকর্মের সন্ধান পাওয়াটা বিরল ঘটনা।’
ধারণা করা হচ্ছে ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত নিলামে চিত্রকর্মটি অন্ততপক্ষে ২৮ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হবে।
সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া কোনো ভারতীয় নারী চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবির রেকর্ডটি অমৃতা শেরগিলের। তার আঁকা আত্মপ্রতিকৃতি ২০১৫ সালে বিক্রি হয়েছিল ২৯ লাখ মর্কিন ডলারে।
সূত্র: আর্ট নিউজপেপার










