গহনা নারীর ভূষণ। সেই সঙ্গে ঐতিহ্যেরও অংশ। এখানেই শেষ নয়। গহনার সঙ্গে যুক্ত মানুষের রুজি রোজগারও। ঢাকায় গয়নার অন্যতম তীর্থস্থান তাঁতী বাজার। বহু যুগ ধরে স্যাকরারা বাস করেন সেখানে। কর্মস্থলও সেটিই। সেখানকার গল্প নিয়ে এলেন তাহমীনা শৈলী। স্যাকরার তাঁতী বাজার নামে শুরু হয়েছে তার একটি প্রদর্শনী।
এটি গতকাল বিকাল ৫টায় লাল মাটিয়ার দ্বীপ গ্যালারিতে উদ্বোধন হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের সিইও কামাল কাদির, ইউসিবিএলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদ হোসেন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশরাফ কায়সার ও দেশের প্রবীণ গহনা শিল্পী নাজিম আহমদসহ অনেকে। ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া। বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে তিনিও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
তাঁতী বাজারের গহনা শিল্পী-স্যাকরাদের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এ প্রদর্শনীতে তুলে আনা হয়েছে কারিগরদের অজানা জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও তাঁতী বাজারের গহনা বাজারের পরিবর্তনের সব চিত্র।
এ আয়োজন নিয়ে তাহমীনা শৈলী বলেন, ‘এ প্রদর্শনী শুধু গহনা নকশার নয়, এটি সেই সঙ্গে তাঁতী বাজার তথা পুরো দেশের এ শিল্প কারিগরদের জীবনের গল্প। তাদের কঠিন পরিশ্রমের এক খণ্ডচিত্র। বিশ্বায়নের যুগে তাদের কাজের প্রতি এ শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আমাদের গহনা শিল্পীদের যাত্রা যাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে সমানতালে, জনমানুষের সে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ক্ষুদ্র আঞ্চলিক শিল্প ইতিহাসে তুলে ধরার প্রয়াস নেয়া হয়েছে।’
এ আয়োজন নিয়ে কামাল কাদির বলেন, ‘তাঁতী বাজারের কারিগরদের শ্রম ও ঐতিহ্যকে এ প্রদর্শনীতে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে।’
দেশের প্রবীণ গহনা শিল্পী নাজিম আহমদ বলেন, ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাঁতী বাজারের কারিগররা যে মনোযোগ, ভালোবাসা আর পরিশ্রম দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তা এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।’










