মহামারীতে ভালোই ভুগছে হলিউড। দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে শুরু হয়েছে নতুন নতুন নিরীক্ষা। ‘চলচ্চিত্র ব্যবসা’ চিরতরে বদলে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে বাজি ধরছেন হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোর নির্বাহীরা। সমালোচকরাও দৃষ্টি রাখছেন।

বছরখানেক আগে গাল গাদোত ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ওয়ান্ডার ওম্যান নাইন্টিন এইটিফোর ছবির জন্য এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর ওয়ান্ডার ওম্যানের মুক্তির তারিখ বদলেছে পাঁচবার। ছবির মুক্তি বিষয়ে কিছুদিন আগে এক আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশক ওয়ার্নার ব্রসের নতুন সিইও জেসন কিলার, চেয়ারম্যান অ্যান সার্নোফ, ওয়ান্ডার ওম্যানের পরিচালক প্যাটি জেনকিনস, অভিনেত্রী গাল গাদোত ও প্রযোজক চার্লস রোভেন। সবার মধ্যেই হতাশা ছিল।

অ্যান সার্নোফ বলেন, ‘আমরা যখন কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বাড়তে দেখলাম এবং করোনাভাইরাসের অনিশ্চিত বৈশিষ্ট্যের বিষয়টা বুঝলাম, তখন সিনেমাটা নিয়ে পরিকল্পনা করাটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম কিন্তু ছবিটা মুক্তি দেয়াটা সম্ভব ছিল না।


একদিকে নিজেদের সিনেমা মুক্তি নিয়ে ভুগতে হচ্ছিল ওয়ার্নার মিডিয়াকে, অন্যদিকে তাদের ছয় মাস বয়সী স্ট্রিমিং সার্ভিস এইচবিও ম্যাক্স গ্রাহক টানতে খুব একটা সফল হয়নি।

ওয়ার্নার ব্রসের নিয়োগ করা এপিডেমিওলজিস্ট জানিয়ে দেন কভিড পরিস্থিতি ভালো না হয়ে বরং আরো খারাপের দিকে যাবে, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে। বড়দিনে ছবির মুক্তির ব্যাপারে তাই আশাবাদী হতে পারছিলেন না স্টুডিওর কর্মকর্তারা।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়ার্নার ব্রস সিদ্ধান্ত নেয় হাইব্রিড রিলিজ কৌশল অবলম্বনের। ওয়ান্ডার ওম্যান যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে ২৫ ডিসেম্বর। যেসব রাজ্যে সিনেমাহল খোলা, সেখানে ছবিটি হলে গিয়ে দেখতে পারবেন দর্শকরা। কিন্তু যেখানে হল খোলা নেই, সেখানে কী হবে? এ সমস্যার সমাধানে একই দিন নিজেদের স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম এইচবিও ম্যাক্সেও ওয়ান্ডার ওম্যান নাইন্টিন এইটিফোর মুক্তি দেবে ওয়ার্নার এন্টারটেইনমেন্ট। এ রকম কৌশল এর আগে হলিউডে কখনো দেখা যায়নি এবং এখানেই থেমে থাকেনি স্টুডিওটি। ব্যবসায়িক পার্টনারদের মামলার হুমকি সত্ত্বেও ওয়ার্নার ব্রস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২১ সালে মুক্তি পেতে যাওয়া ১৭টি ছবির ক্ষেত্রে তারা এ পদ্ধতি অবলম্বন করবে।

হলিউডের বিভিন্ন স্টুডিওতে কর্মরত কয়েক হাজার কর্মী এ বছর চাকরি হারিয়েছেন। শতাব্দীর প্রাচীন এ ইন্ডাস্ট্রি বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনিভার্সাল গ্রুপের চেয়ারম্যান মনে করেন পরিস্থিতি কভিড মহামারীর পরেও আর আগের মতো হবে না। তাই চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে বিভিন্ন প্রেক্ষিত থেকে ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর বক্সঅফিসে আয় হয়েছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ কম। এ আয় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় (এমনকি তা মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় না নিয়েই)।

মহামারী শেষ হওয়ার পর যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, ততদিনে অনেক পরিবর্তন ঘটতে পারে। অনেক থিয়েটার চেইন দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ফলে চাইলেও হয়তো অনেক দর্শক আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখার স্বাদ পাবেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ওয়ার্নার ব্রসের নতুন সিইও জেসন কিলার তাদের ছবি দেখার জন্য দর্শকদের দুটি বিকল্প দিতে চান—সিনেমাহল নয়তো স্ট্রিমিং সাইট। হয়তো তাদের এ সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। উদ্যোগটি কতটা সফলতা পাবে তা এখন দেখার অপেক্ষায় বিশ্লেষকরা।

 

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার