এক মাসের মধ্যে কানাডায় একই রেস্টুরেন্টে দুইবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেতা কপিল শর্মার রেস্টুরেন্টের মালিক ও কর্মীরা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কপিল শর্মার রেস্টুরেন্টকে লক্ষ্য করে প্রায় ২৫টি গুলি বর্ষণ করা হয়। গুলির আঘাতে রেস্টুরেন্টের কাচের জানালা ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এতে কেউ আহত হননি।

এ হামলার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, কপিল শর্মার জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কাপিল শো’-তে সালমান খানকে আমন্ত্রণ জানানো। এক চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ডিংয়ে হামলার পেছনের এ তথ্য ফুটে উঠেছে। খবরটি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান টাইমস। ওই অডিও ক্লিপে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য হ্যারি বক্সার বলেন, ‘যদি কেউ সালমানের সঙ্গে কাজ করে বা তাকে সমর্থন করে, সে হয় ছোট অভিনেতা কিংবা অল্প সময়ের পরিচালক—আমরা কাউকেই ছাড় দেব না। তাদের প্রাণ দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য তাদের হত্যা করা এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন নেটফ্লিক্সে চালু হওয়া ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’র তৃতীয় সিজনের প্রথম পর্বে সালমান খান উপস্থিত ছিলেন। এ কারণেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ক্ষোভ চরমে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার দায় স্বীকার করেছেন বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য গোল্ডি ধিলন, যিনি বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাঞ্জাবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও গত ১০ জুলাই কপিল শর্মার রেস্টুরেন্টে একাধিক হামলা চালানো হয়েছিল, যার পেছনে দায়ী ছিলেন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের (বিকেআই) পলাতক সদস্য হরজিৎ সিং লাড্ডি।

বিষ্ণোই গ্যাং ও সালমান খানের মধ্যে শত্রুতার ইতিহাস বহু পুরনো। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় থেকেই এ দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সালমান খান নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। কপিল শর্মা ও সালমান খান উভয়ের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া