ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম’-এর পরিচালক রুশো ভ্রাতৃদ্বয় নীরবে সৌদি আরব থেকে বেশ মোটা অংকের আর্থিক প্রণোদনা পেয়েছেন। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন এটা বিনিয়োগ। ভ্যারাইটি জানাচ্ছে, এ বছরের শুরুতে রুশোরা তাদের প্রডাকশন কোম্পানি এজিবিওর জন্য সৌদি আরবের একটি ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার নগদ পেয়েছেন।
সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটির নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি। চুক্তিটি এ বছরের শুরুতে হয়েছে। এ আর্থিক বিনিয়োগের বিপরীতে সৌদি ব্যাংকটি রুশো ব্রাদার্সের কোম্পানিতে সামান্য কিছু শেয়ার পেয়েছে। চুক্তির বিষয়ে ওয়াকিবহাল সূত্র ভ্যারাইটিকে জানিয়েছে, এ আর্থিক চুক্তি হয়েছে তহবিল উন্নয়ন, প্রডাকশনকে শক্তিশালী করতে।
রুশো ব্রাদার্স তাদের কোম্পানির জন্য আরো বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ চালাচ্ছেন। তাদের কোম্পানি কিছুদিন আগে প্রযোজনা করেছে নেটফ্লিক্সের হিট, ক্রিস হেমসওয়ার্থ অভিনীত দি এক্সট্র্যাকশন, এছাড়া আসছে টম হলান্ডের চেরি।
রুশো ভ্রাতৃদ্বয় জো ও অ্যান্থনি রুশো ভ্যারাইটিকে সৌদি ক্যাশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনেকে বলছেন, টাকাটা এককালীন সৌদি প্রণোদনা। আবার কেউ বলছেন, এটা বিনিয়োগ এবং অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি ডলারের অনেক বেশি।
হলিউডের অনেক বড় নামই সৌদি আরব থেকে বিনিয়োগ পেয়েছে, এদের মধ্যে ওয়াল্ট ডিজনি থেকে লাইভ নেশন—অনেকেই আছে। পশ্চিমা মিডিয়ার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক নিয়ে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের পর।
সৌদি আরবে এখন চলছে বিনোদন জগেক সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করে তোলার চেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের মুভি থিয়েটার চেইন এএমসি থিয়েটার সৌদি আরবে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের জন্য বড় অংকের চুক্তি করেছে। লাইভ সংগীতের জন্য অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি সরকার, এজন্য তারা লাইভ নেশনের ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। অন্যদিকে জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের পর হলিউডের এজেন্সি সৌদি আরবের ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনোয়োগ ফিরিয়ে দেয়।
২০১৬ সালে নিজেদের প্রডাকশন হাউজ এজিবিও প্রতিষ্ঠা করেন রুশো ভ্রাতৃদ্বয়। তাদের লক্ষ্য চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্লাটফর্মে সৃষ্টিশীল, নতুন ধরনের কনটেন্ট নির্মাণ করা।
সূত্র: ভ্যারাইটি










