টড ফিলিপস এমন হতাশ করবেন, আশা করেনি কেউ। সিনেমাটি তিনি নির্মাণ করেছেন নিজের মতো করে। কিন্তু দর্শকের তা পছন্দ হলো না। হয়নি সমালোচকদেরও। তবে দর্শকের পছন্দ না হওয়া এ সিনেমাকে থিয়েট্রিক্যাল রানে পিছিয়ে যেতে হলো। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া জোকার প্রায় কোনো আশা না জাগিয়েই আয় করেছিল ১০০ কোটি ডলারের বেশি। সেই জায়গা থেকে সবারই ধারণা ছিল এর সিকুয়াল ‘জোকার: ফোলি আ দু’ এ রকমই আয় করবে। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির শুরু থেকেই বেশ নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হয়ে পিছিয়ে গেছে ব্যবসায়িক দিক থেকে।

৪ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া জোকার প্রায় দুই সপ্তাহ (বক্স অফিসের হিসাবে) পার করে সারা বিশ্ব থেকে আয় করেছে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি। ২০১৯ সালের জোকার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দুই সপ্তাহে আয় করেছিল ৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার এবং এর বৈশ্বিক আয় ছিল ২৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। বোঝাই যাচ্ছে প্রথম সিনেমার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারবে না এটি। টিকিট বিক্রি থেকে অনুমান করা যাচ্ছে সিনেমাটি এর থিয়েট্রিক্যাল রানে যুক্তরাষ্ট্রে মোট আয় করবে সাড়ে ৬ কোটি ডলার এবং বৈশ্বিক আয় হতে পারে ২১ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এ পরিমাণ আয় নিয়েই তার বক্স অফিস ছাড়তে হবে।

ভারী লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে সিনেমাটি। কেননা এটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২০ কোটি ডলার এবং সিনেমাটির প্রচারণায় আরো ১০ কোটি ডলার খরচ করেছে ওয়ার্নার ব্রোস। সে হিসেবে সিনেমাটির ব্রেক ইভেনে যেতে হলেও ৪৫ কোটি ডলার আয় করতে হবে। তার ধারেকাছেও যাওয়ার সুযোগ নেই। যদিও ওয়ার্নার ব্রোসের মতে, ব্রেক ইভেনে যেতে আয় করতে হবে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

জোকার: ফোলি আ দু মুক্তির আগেই এ নিয়ে বেশ কথা উঠেছিল। সিনেমাটি মিউজিক্যাল ঘরানার হবে তা জানানোর পরই দর্শকের মনে হয়েছিল এটি জোকারের প্রথম পর্বের মতো হচ্ছে না। এরপর কান চলচ্চিত্র উৎসবে দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং অভেশন পেলেও সে শঙ্কা কাটেনি। কান থেকেই এসেছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিনেমা মুক্তির পর তা বেড়েছে বৈ কমেনি। ‘জোকার: ফোলি আ দু’ রটেন টমেটোডে ৩৩ শতাংশ রটেন ভোটের পাশাপাশি সিনেমাস্কোরে পেয়েছে ‘ডি’ গ্রেড। ফলে সিনেমাটির ভালো আয় করার কোনোই সুযোগ নেই। সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়ার্নার ব্রোস এ সিনেমার কারণে ১৫-২০ কোটি ডলার ক্ষতি গুনবে।

এর আগে এ বছর সবচেয়ে সফল সিনেমা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। সিনেমাটি আয় করেছে ১৩২ কোটি ডলারের মতো। জোকারকে এই সিনেমার সঙ্গে টক্কর দেয়ার মতো মনে করা হয়েছিল, কিন্তু সে আশা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে। তবে এখনো অনেকে আশা করছেন ওটিটিতে এলে সিনেমাটি কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। তবে ওয়ার্নার ব্রোসের ক্ষতি কোনোভাবেই ১২ কোটি ডলারের কম হচ্ছে না বলে মনে করছেন ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র ও ছবি: ভ্যারাইটি