বলিউডে পা রাখার প্রায় দেড় যুগ হতে চলছে দীপিকা পাড়ুকোনের। এর মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন অনন্য উচ্চতায়। শীর্ষস্থান দখল করেছেন আইএমডিবির করা ভারতীয় তারকাদের তালিকায়। অভিনয় করেছেন প্রথম সারির অভিনেতাদের বিপরীতে, যাদের মধ্যে ছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, আমির খান ও রণবীর কাপুর। ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসেও তিনি যে অপ্রতিরোধ্য, তা উঠে এসেছে সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমায়।
শাহরুখ খানের বিপরীতে ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ওম শান্তি ওম’ (২০০৭)-এর মধ্য দিয়ে দীপিকার রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ। এর পর থেকে প্রায় সব ক’টি কাজের মধ্য দিয়ে দর্শকপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন তিনি। নানা চরিত্রে অভিনয়ে মিশে গেছেন অনায়াসে। হাস্যরসাত্মক ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ থেকে শুরু করে ‘পিকু’ সিনেমায় আবেগি চরিত্র পর্যন্ত। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শৈলী অন্বেষণ করেছেন দীপিকা। ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ও ‘পদ্মাবতী’ সিনেমায় মহাকাব্যিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের চিত্রায়ণ তাকে বলিউডের অন্যতম দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেছে। ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এ হাজির হয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। এছাড়া ‘ট্রিপল এক্স’-এর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে হলিউড অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে দৃঢ় করেছেন দীপিকা।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দীপিকাকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। ২০২০ সালে তিনি ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দেন। ‘ছাপাক’ তখন মুক্তির অপেক্ষায়। এ নিয়ে হয়েছিল নানা কথা। সে সময় দীপিকা বলেছিলেন, ‘নিজের মত প্রকাশে আমি মোটেই ভয় পাই না।’ ভোগ ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যখন কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে নিজে ভালো-মন্দ বুঝি, তখন ওই বিষয়ে নিজের মতে অটল থাকি। বেড়ে ওঠার সময় আমি এ শিক্ষাই পেয়েছি যে মত প্রকাশে ভয়ের কিছু নেই।’
সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত ‘পদ্মাবত’ সিনেমা নির্মাণের সময়ও একটা বিতর্ক উঠেছিল। পদ্মাবতীর পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলেছিল রাজপুতদের একাংশ। সিজিআই ব্যবহার করে তা ‘সংশোধন’ করেছিলেন সিনেমার নির্মাতা। কিন্তু দীপিকা তার অবস্থান থেকে সরেননি। পরবর্তী সময়ে পাঠানে গেরুয়া পোশাক পরার কারণেও বিতর্কে পড়েন তিনি। সে সময় বলেছিলেন, ‘এক রুমে সবার তুলনায় ভিন্ন কোনো মত নিয়ে সাহসের সঙ্গে বসে থাকতে পারি আমি।’
কোনো সমালোচনার মধ্যেই দীপিকাকে আটকে রাখা যায়নি শেষ পর্যন্ত। তিনি ডুবে রয়েছেন কাজে। ভক্তদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন একের পর এক উপহার। কাজের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েই দীপিকা বলেন, ‘আমি সততা ও ভালো কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে পর্দায় এবং পর্দার বাইরে দর্শকের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি। চেষ্টা করছি তাদের সঙ্গে সংযোগ চালিয়ে যেতে এবং এর প্রতিদান দিতে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










