লিলি গ্ল্যাডস্টোন অভিনয় করেছেন মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন সিনেমায়। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন গোল্ডেন গ্লোবে। এছাড়া সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন অস্কারের চূড়ান্ত তালিকায়। নেটিভ আমেরিকান হিসেবে তিনিই প্রথম অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছেন। বেশ বড় একটা কৃতিত্ব বলতেই হয়। বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে পালন করতে চেয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার কাটিয়েছেন ওকলাহোমার ওশেজদের সঙ্গে। কেননা তাদের গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন।

ঐতিহাসিক এ মনোনয়ন পাওয়ার পর লিলি বলেন, ‘আমি ঠিক করেছিলাম ওশেজ রিজারভেশনে থাকব। সেখানে বসেই খবরটা শুনব। আমি চেয়েছি মলি কাইলের পরিবারের যতটা কাছে থাকা সম্ভব, থাকতে। সে কারণেই ওকলাহোমায় এসেছি। আর আশা করি কয়েকদিনের মধ্যই আমি ফেয়ারফ্যাক্স ও গ্রে হর্সে শ্রদ্ধা জানাতে যাব।’

গ্লাডস্টোন প্রথম নেটিভ আমেরিকান হিসেবে মনোনীত হলেও তার মনোনীত হওয়া বিস্ময়ের না। কেননা তিনি পুরস্কারও পাবেন এমন ধারণা করছে সবাই। কেননা এরই মধ্যে গোল্ডেন গ্লোব পেয়েছেন তিনি। তাছাড়া অক্টোবরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমায় তার অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে। প্রশংসাবাক্য শুনছেন প্রায় প্রতিদিন।

লিলি বলেন, ‘আমি পুরোটা সময়ই এগুলো অনুভব করছি। আমার মনে হচ্ছে একটা সম্মান আমি বহন করছি, যা আরো অনেক আগে আমাদের পাওয়ার কথা ছিল। তবে এখনো সময় আছে আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠীর মানুষকে তাদের উপযুক্ত মর্যাদা, বসবাস সুবিধা দেয়ার। তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়ার।’

লিলি নিজে একজন নেটিভ আমেরিকান এবং তিনি বেড়ে উঠেছেন মন্টানার একটি রিজারভেশনে। তাই আদিবাসী জীবন তিনি অনুভব করেছেন নিজেকে দিয়ে। তিনি জানেন, আদিবাসীদের গল্প ও সত্তা হারিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যখন এসব গল্প মাটিচাপা পড়ে যাচ্ছে। সিনেমায় আমরা সে ইতিহাসের একটা অংশ দেখাতে পারি।’

লিলি মূলত তার গোষ্ঠীর পাশাপাশি আরো অনেক নেটিভ আমেরিকান ও বিশ্বের নানা আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। 

সূত্র: ভ্যারাইটি