স্করসেসিকে নিয়ে উঠেছিল বিতর্ক। চিত্রনাট্যকার সিমোন আফরাম তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের জন্য ৫ লাখ ডলার নিয়েছিলেন মার্টিন। কিন্তু সে সিনেমা কখনো হয়নি। এর বিপরীতেই সিমোন একটি মামলা করেন এবং সে মামলায় বিবাদটি মিটিয়ে নিয়েছেন।
সিমোন আফরামের অভিযোগ অনুসারে, তিনি ও এডওয়ার্ড কাহল মিলে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মার্টিন স্করসেসির সঙ্গে একটি সিনেমা নিয়ে কথা বলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নিমির্তব্য এ সিনেমার নামকরণ হয়েছিল ‘অপারেশন ফর্টিটিউড’। মূলত স্করসেসির সুনামকে কাজে লাগিয়ে সিনেমাটিকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন প্রযোজকদ্বয়। মার্টিন রাজিও হয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটি করেননি।
আফরাম অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘দিনের পর দিন স্করসেসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বলা হয়েছে তিনি মিটিংয়ে কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত আছেন।’ এর পরই তিনি মামলা করেন।
মামলার শুনানিতে স্করসেসির অ্যাটর্নি বলেন, ‘আফরাম সিনেমা জগতে নতুন। তিনি সিনেমা নির্মাণের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে জানেন না। আফরামের দুটো চিত্রনাট্য আছে, যা এখনো কোনো প্রযোজক গ্রহণ করেননি।’ এমন অবস্থায় মূলত আফরাম চেষ্টা করেছিলেন যেকোনো প্রকারে স্করসেসিকে রাজি করিয়ে তার নাম ব্যবহার করে সিনেমাটির জন্য বিনিয়োগকারী পাবেন। কিন্তু সে রকম হয়নি। স্করসেসির আইনজীবী আরো বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে স্করসেসি দুই একজন পরিচালকের খোঁজও করেছেন, যারা সিনেমাটি পরিচালনায় আগ্রহী হতে পারেন।’
এ মামলায় স্করসেসির আইনজীবী আরো জানান, মূলত আফরাম তার সিনেমার জন্য যা যা করণীয় তা করেননি। স্করসেসি একজন গুণী ও ব্যস্ত নির্মাতা। তা সত্ত্বেও তিনি সিনেমাটি নির্মাণে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সময়ের বিষয়টি তারা বুঝতে পারেনি। ‘দ্য আইরিশম্যান’ নির্মাণে খোদ স্করসেসির সময় লেগেছিল ১২ বছর।
২০২৩ সালের মে মাসে করা মামলায় আফরাম অভিযোগ করেছিলেন, স্করসেসি তার কাছ থেকে ৫ লাখ ডলার নিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো কাজ করেননি। তার জন্য নষ্ট হয়েছে ১৫ মাস। এ মামলার শুনানির পর আদালত বলছে অপারেশন ফর্টিটিউড নামের সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এখনো এ সিনেমার প্রাথমিক কাজই শুরু করেননি। তাদেরই পরিকল্পনা ত্রুটিযুক্ত। এসব বিবেচনায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন স্করসেসি।
সূত্র: ভ্যারাইটি










