বছরের অর্ধেকটা শেষ। এর মধ্যে বলিউডে এসেছে নানা চমক। পাঠানের মতো সিনেমা এ বছরই মুক্তি পেয়েছে। বলিউডের অনেক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এ সিনেমা। আর এ ছবি দিয়ে ফিরেছেন বলিউড বাদশাহ। দ্য কেরালা স্টোরির মতো আন্ডারডগ কিছু সিনেমাও বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছে। সন্তোষজনক রিভিউ না পেলেও বেশ ভালো ব্যবসা করেছে সালমান খানের কিসি কা ভাই কিসি কি জান। তাছাড়া সেলফি, শেহজাদা, ভোলার মতো রিমেক সিনেমাগুলোও বক্স অফিসে কিছু পয়সা তুলতে পেরেছে। মাঝারি বাজেটের কয়েকটি সিনেমাও সাফল্য পেয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সাস নরওয়ে ও জারা হটকে জারা বাঁচকে সিনেমার নাম উল্লেখযোগ্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ভারতি দুবে ও আলমাস মির্জা লিখেছেন, বলিউডে একটি সিনেমা কেমন ব্যবসা করবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তবে আগে থেকেই কিছু অনুমান তো করাই যায়। এক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। তারকাদের সিনেমা হলে দর্শক টেনে আনার ক্ষমতা কি এখনো আছে? বড় বাজেটের সিনেমার ভিড়ে মাঝারি বাজেটের সিনেমার কি কোনো সুযোগ আছে? রোমান্টিক কমেডি ঘরানার আবেদন কি এখনো অটুট আছে? রিমেক সিনেমার ভবিষ্যৎ কী? এ রকম অনেক প্রশ্নের জবাবের ওপর নির্ভর করে একটি সিনেমার বক্স অফিস ভাগ্য।
তারকা অভিনেতাদের ভƒমিকা: সিনেমার সাফল্যের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ফর্মুলা হলো তারকা অভিনেতা ও ভালো কনটেন্টের সমন্বয়। যখন কোনো সিনেমায় চমৎকার একটি গল্পের সঙ্গে তারকা অভিনেতাদের সংযোগ ঘটে, তখন সিনেমাটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সদা পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে তারকা অভিনেতাদের ভূমিকা সবসময়ই একটি তর্ক সাপেক্ষ বিষয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই, তারকা অভিনেতারা প্রাথমিকভাবে একটি হাইপ তুলতে পারেন এবং সিনেমা হলে দর্শক টানতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ক্ষেত্রে সিনেমার কনটেন্টই গুরুত্বপূর্ণ। বলিউডের বাণিজ্য বিশেষæ অতুল মোহন বলেন, ‘দ্য কেরালা স্টোরি দেখিয়েছে, কীভাবে বড় তারকা ছাড়াও সিনেমা বিস্ময়কর সাফল্য লাভ করতে পারে।’ তবে তিনি তারকা অভিনেতার গুরুত্ব বা প্রভাবও স্বীকার করে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি পাঠান ও কিসি কা ভাই কিসি কি জান সিনেমার উদাহরণ টেনেছেন। দুর্বল চিত্রনাট্য, খারাপ উপস্থাপনা ও নতুনত্বের অভাব থাকলেও কিসি কা ভাই কিসি কি জান স্রেফ সালমান খানের নামের জোরে বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বলিউডের আরেক বাণিজ্য বিশেষæ কমল নেহতা। তিনি বলেন, ‘কনটেন্ট হলো রাজা। সবসময়ই তা প্রধান ছিল। কিন্তু তারকা অভিনেতাদের দর্শক আকর্ষণের ক্ষমতাকে অস্বীকার করা যাবে না। শাহরুখ খানের জন্য দর্শক পাঠান দেখেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ কিন্তু কমল নেহতা এটিও জানিয়েছেন, যদি পাঠান ভালো সিনেমা না হতো, তাহলে কেবল শাহরুখ খানের তারকা খ্যাতি এটিকে ব্যর্থতার হাত থেকে বাঁচাতে পারত না। মানুষ এখন অনেক সিলেক্টিভ। তারা ভালো কনটেন্ট চায়। তাদের দেখার ভঙ্গি পাল্টেছে। তারা প্রতিটি কনটেন্টকে সর্বোচ্চ স্ট্যান্ডার্ডে যাচাই করে। তাই নির্মাতাদের জন্য কাজ প্রতিনিয়ত কঠিন হচ্ছে বলে জানান কমল নেহতা। তারকা অভিনেতাদের একটি প্রভাব সবসময় থাকে বলে বিশ্বাস করেন নির্মাতা বিপুল শাহ। তিনি বলেন, ‘তারকা অভিনেতাদের প্রভাব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’
বাজেট: ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে ছোট ও মাঝারি বাজেটের অনেক সিনেমা দারুণ ব্যবসা করেছে। এখানেও কনটেন্টই গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল শাহ জানান, বিষয়টি বাজেটের ওপর নির্ভর করে না, কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে। কমল নেহতার মতে, কোনো সিনেমাকে ব্যবসাসফল হতে হলে দর্শকদের আবেগকে ছুঁতে হবে। সেটি কমেডি, থ্রিলার যেকোনো কিছু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ঘরানা বা বাজেট এক্ষেত্রে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
রিমেকের ভবিষ্যৎ: রিমেক সিনেমাগুলো তুলনামূলক কম ব্যবসা করছে। এর কারণ হিসেবে কমল নেহতা বলেন, ‘কারণ বিভিন্ন প্লাটফর্মে কনটেন্টগুলো আছে। এখন ডাবড ভার্সন ও সাবটাইটেল ভার্সনও পাওয়া যায়। তাই দর্শক এখন আর রিমেকের জন্য অপেক্ষা করে না।’
সূত্র ও ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া










