বলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন। ৮২ বছর পার করে এখনো একের পর এক সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেয়ার পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও পাচ্ছে তার অভিনয়। কিন্তু ক্যারিয়ারের একটা সময়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। অনেকটা মিড লাইফ ক্রাইসিসের মতো। নায়কের চরিত্র করার মতো বয়স নেই, আবার নায়কের বাবার চরিত্রও করতে পারছেন না। কেননা অমিতাভ এমন এক নাম তাকে ওই ধরনের চরিত্রেও মানতে পারত না দর্শক। নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে তার কোনো সিনেমাই ভালো করছিল না। তখনই দক্ষিণ ভারতের পরিচালকের সঙ্গে কাজ করলেন। তৈরি হলো ‘সূর্যবংশ’ (সুরিয়াভানশাম)। সেট ম্যাক্সের কল্যাণে সিনেমাটি আজ সবার পরিচিত। অমিতাভের ‘মোস্ট ওয়াচড’ সিনেমাটি এসেছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়ে।
নব্বইয়ের দশক শাহরুখ-সালমান-আমিরের স্টারডমের সময়। সালমান যথেষ্ট জনপ্রিয়। শাহরুখ একের পর এক দর্শকপ্রিয়, সমালোচক প্রশংসিত ও এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমা করে যাচ্ছেন। আমিরের সিনেমাও দর্শক পছন্দ করছেন। আছেন অজয়, সুনীল, অক্ষয়রা। তারুণ্যের মধ্যে পিছিয়ে পড়ছিলেন অমিতাভ। ১৯৯৯ সালে তিনি ইভিভি সত্যনারায়ণের (এদারা ভিরা ভেঙ্কট সত্যনারায়ণ) পরিচালনায় অভিনয় করেন একটি সিনেমায়। নাম সূর্যবংশ। সিনেমাটি ১৯৯৭ সালে বিক্রমের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা সূর্যবংশর রিমেক। সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন জয়াসুধা, রচনা ব্যানার্জি, অনুপম খের, কাদের খান ও দক্ষিণী অভিনেত্রী সৌন্দর্য। ৭ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এ সিনেমা বক্স অফিসে আয় করেছিল সাড়ে ১২ কোটি রুপি।
কভিড ও কভিড-পরবর্তী সময়ে স্ট্রিমিং জনপ্রিয়। তার আগেই জনপ্রিয় হয়েছে ইউটিউব। এসব মাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও কোনো কনটেন্টের সার্কুলেশন, সাফল্য নির্ভর করে সংখ্যার ওপর। বিবেচনায় নেয়া হয় কনটেন্টটি কত মানুষ দেখছে। সূর্যবংশ কত মানুষ দেখেছে টেলিভিশনে তা এখন হিসাব করে বলা সম্ভব না। সেট ম্যাক্সে সিনেমাটি একটা সময় প্রায় প্রতিদিনই দেখানো হতো। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের বহু দর্শকও এ সিনেমা দেখেছেন। ইউটিউবে আছে সিনেমাটি। ভারতীয় গণমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, কভিডকালে একটি চ্যানেলে সূর্যবংশ আপলোড করা হয় এবং সে চ্যানেলে সিনেমাটি ৫০ কোটি ভিউ পেয়েছে। এরপর থেকে আরো কিছু ইউটিউব চ্যানেল আপলোড করেছে সিনেমাটি। সেসব চ্যানেল মিলিয়ে হিসাব করলে সিনেমাটি আরো ১০ কোটি ভিউ পেয়েছে। অর্থাৎ ইউটিউবে সিনেমাটি মোট ৬০ কোটি ভিউ পেয়েছে।
সিনেমাটির এত জনপ্রিয়তার কারণ কী? মূলত সেট ম্যাক্স একটা সময় ‘জোর করে’ সিনেমাটি দেখিয়েছে। তবে মজার ব্যাপার, দর্শক উপভোগও করেছেন। কারণ সনি এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কের কোনো এক নির্বাহীর মনে হয়েছিল সিনেমাটির মধ্যে ‘মিম ম্যাটেরিয়াল’ আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম তখনো জনপ্রিয় হয়নি, কিন্তু এখন এ সিনেমায় শিবাজী সত্যমের ‘নাও পানি খাও’, কিংবা ক্ষীর খেয়ে অমিতাভের রক্ত বমি করার দৃশ্য মিম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোরে। সিনেমায় দক্ষিণী ও বলিউড সিনেমার ‘মার্কমারা’ কমেডি রাখা হয়েছিল। তথাকথিত সস্তা এ কমেডি—যেমন বাসে নারী কন্ডাক্টর রাখা, কাদের খানের সঙ্গে অনুপম খেরের হাস্যকর কথোপকথন—দর্শককে মজা দিয়েছে প্রায় দেড় যুগ ধরে।
এছাড়া সিনেমার মধ্যে ছিল পারিবারিক সম্পর্কের রসায়ন। পুত্রের সঙ্গে পিতার দ্বন্দ্ব, আশাবাদ ও একটি ধনী বংশের সঙ্গে আরেকটি প্রভাবশালী বংশের দ্বৈরথ। এসবের মধ্যে থেকে ‘অশিক্ষিত’ হীরা ঠাকুরের ধনী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠার চিরাচরিত বলিউডি স্টাইল অনেক দর্শককেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তারা মোটিভেশন পেয়েছেন সিনেমা থেকে। এ ধারার গল্প বলিউড ও ভারতীয় উপমহাদেশের সিনেমার দর্শকের বরাবরই প্রিয়।










