জনপ্রিয় গায়ক-সুরকার বাপ্পি লাহিড়ী আমাদের মাঝে আর নেই। রয়ে গেছে শুধু তার গাওয়া গান আর স্মৃতি। এ গায়ক প্রায়ই তার জীবনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বলতেন। বিশ্ব কাঁপানো পপস্টার মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গেও ছিল তার কিছু সুন্দর মুহূর্ত, যা বিভিন্ন সময়ে বলতেন স্বর্ণমানব বাপ্পি। ১৯৯৬ সালে মাইকেল জ্যাকসন মুম্বাই আসেন। মুম্বাইয়ে তার সঙ্গে দেখা হয় বাপ্পি লাহিড়ীর। বাপ্পির গানের প্রশংসার সঙ্গে তার স্বর্ণের গণেশের লকেট দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। 

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেছিলেন প্রয়াত গায়ক বাপ্পি লাহিড়ী। তিনি বলেছিলেন, ‘মাইকেল জ্যাকসনের গান কার না ভালো লাগে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, আমার স্বর্ণের চেইন ও লকেট দেখে প্রশংসা করেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।’

স্বর্ণের প্রচণ্ড আকর্ষণ ছিল বাপ্পি লাহিড়ীর। এ নিয়ে বাপ্পি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জখমি সিনেমায় আমি কাজ করে পরিচিতি পেতে শুরু করি। এ উপলক্ষে আমার মা আমাকে একটি সোনার চেইন দিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে বিয়ের পর আমার স্ত্রী আমাকে আরো দুটি চেইন উপহার দেয়। এর একটির লকেটে ছিল বি লেখা এবং অন্যটি ছিল সোনার গণপতি মূর্তি। ১৯৯৬ সালে মুম্বাইয়ে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তখন তিনি আমার লকেট দেখে প্রশংসার সুরে বলেছিলেন, ওহ, কী সুন্দর গণেশ!’

এ নিয়ে বাপ্পি আরো বলেন, ‘আমি চাইলেই তাকে আমার লকেটটি উপহার হিসেবে দিতে পারতাম। কিন্তু এটা আমি করিনি। কারণ আমি মনে করি, এ লকেট আর চেইনগুলো আমার জন্য অনেক লাকি। সে সময় আমি ভেবেছিলাম, মাইকেল জ্যাকসনের সব আছে আর আমার আছে শুধু এই চেইন আর লকেট। এগুলো আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আমার জন্ম কলকাতায়, কিন্তু মহারাষ্ট্রের মাটিই আমাকে ভালোবাসা আর আশীর্বাদ দিয়েছে। আমি যদি মাইকেলকে গণেশ দিই, তাহলে হয়তো আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হব, যেটা সত্যি আমি চাইনি।’

একটি টেলিভিশন শোয় বাপ্পি লাহিড়ী বলেছিলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে মাইকেল জ্যাকসনের সাঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আর এর থেকেও আমি সৌভাগ্যবান। কারণ তিনি নিজে আমার গানের প্রশংসা করেছিলেন।’

দুই কিংবদন্তির সাক্ষাতের মুহূর্ত বর্ণনা করেছিলেন বাপ্পি। তিনি বলেন, ‘আমি বসে ছিলাম। আমাকে দেখে মাইকেল জ্যাকসন এগিয়ে আসেন। আমার সোনার চেইন আর গণেশের লকেট দেখে উনি বলেন, এটা সত্যি চমত্কার। এরপর উনি আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন। নাম বলতেই মাইকেল জ্যাকসন পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, আমি একজন সুরকার কিনা। জবাবে আমি বলেছিলাম, হ্যাঁ আমি “ডিস্কো ড্যান্সার” গানটি করেছি। এটা শোনার সাথেই সাথেই মাইকেল জ্যাকসন আমাকে বলেছিলেন যে তার আমার গান ভালো লাগে। বিশেষ করে জিমি জিমি গানটি তার অনেক প্রিয়।’

শুধু মাইকেল জ্যাকসন বা ভারতীয়দের কাছে নয়, বাপ্পি লাহিড়ীর জনপ্রিয়তা ছিল বাংলাদেশেও। অসুস্থতার কারণে এক মাস হাসপাতালে ছিলেন এ শিল্পী। তবে সুস্থতা পেলে সোমবার বাড়ি ফেরেন তিনি। একদিন পেরোতেই মঙ্গলবার ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। তবে আর ফিরে আসেননি ৬৯ বছর বয়সী এ গায়ক। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় (ওএসএ) আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাপ্পি লাহিড়ী। আজ মুম্বাইয়ে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস