ফরাসি অভিনেতা ও সিনেমা নির্মাতা অ্যালেন ডেলন, যার হাত ধরে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের বিখ্যাত সব ইউরোপীয় সিনেমা হয়েছে। গতকাল ৮৮ বছর বয়সী এ গুণী অভিনেতা মৃত্যুবরণ করেছেন ।
ডেলন মারা গেছেন ফ্রান্সের ডউচি শহরে, যেখানে তিনি তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের সঙ্গে বসবাস করতেন। ২০১৯ সাল থেকেই অভিনেতা শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলেই পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।
তবে সুস্থ থাকাকালীন ২০১৮ সালে ফরাসি এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডেলন জানিয়েছেন, তার অভিনয়ে আসা আসলে একটি দুর্ঘটনা ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি মঞ্চের কেউ ছিলাম না। আমি একজন অভিনেতা। একজন থিয়েটার করা মানুষ শিখতে থাকে, একেবারে নিজের পুরো জীবনটাই তার শেখার মধ্য দিয়ে কেটে যায়। অন্যদিকে একজন অভিনেতা সে এ জগৎকে উপভোগ করে। সে জায়গা থেকে বললে, আমি সারা জীবন উপভোগ করেছি। কখনো পারফর্ম করিনি। অভিনেতা হয়ে যাওয়াটা ছিল আমার জন্য একটি দুর্ঘটনা। আমার জীবন, ক্যারিয়ার সবই আসলে দুর্ঘটনা।’
তবে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই অভিনয়ে আসা ডেলনের ক্যারিয়ারে আছে ‘রোকো অ্যান্ড হিজ ব্রাদার্স’ (১৯৬০) ও ‘দ্য লিওপার্ড’ (১৯৬৩), নির্মাতা রেনে ক্লেমেন্টের ‘পার্পল নুন’, মাইকেলেঞ্জেলো আন্তোনিওনির ‘দ্য ইক্লিপস’-এর মতো বেশকিছু সেরা সিনেমা। যে সিনেমাগুলো এখনো দর্শকপ্রিয়।
নির্মাতা পিয়েরে মেলভিলের ‘লে সামোরাই’ (১৯৭৬) ও ‘দ্য রেড সার্কেল’ (১৯৭০)-এ দুই সিনেমা ডেলনের ক্যারিয়ারের ক্ল্যাসিক সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডেলনের সিনেমার অ্যাকশন চরিত্রগুলোর জন্য প্রায়ই তাকে পুরুষ ব্রিজিত বার্দো বলা হতো। অ্যাকশন, ড্রামা ও ক্রাইম এ তিন ধারার গল্প নিয়েই দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। তার ‘দ্য সিসিলিয়ান ক্ল্যান’ ( ১৯৬৯) ও ‘বোরসালিনো’-এ (১৯৭০) অভিনয় ফ্রান্স ও ইতালি উভয় দেশের বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল।
প্রায় শখানেক সিনেমায় অভিনয়সহ কয়েক ডজন সিনেমা পরিচালনাও করেছেন ডেলন। জীবদ্দশায় পেয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ১৯৯৫ সালে তাকে বার্লিনালে একটি সম্মানসূচক গোল্ডেন বিয়ার ও ২০১৯ সালে কানে সম্মানসূচক পালমে ডি’অরও দেয়া হয়েছিল।
সূত্র ও ছবি: দ্য হলিউড রিপোর্টার









