অভিনয়, লেখালেখি, পরিচালনা এ সবকিছুই করেন মানব কওল। অভিনেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। পর্দায় তাকে প্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালে। কমেডি ঘরানার জন্তারাম মন্তারামে অভিনয় করেছিলেন। এরপর বহু সিনেমায়ই দেখা গেছে, তবে বলিউডে সত্যিকার অর্থে নিয়মিত নন তিনি। কেননা ৪৮ বছর বয়সী মানব বেশির ভাগ সময় কাটান পাহাড়ে। কেননা তিনি লিখতে পছন্দ করেন আর ভ্রমণ তার লেখালেখি ও সিনেমা পরিচালনায় অনেক বেশি সহায়তা করে। মানব নিজেকে একজন লেখক হিসেবেই দেখেন।

কিছুদিন আগে স্ক্রলের সঙ্গে কথা বলেছেন মানব। প্রথম সিনেমার স্মৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে মানব বলেন, ‘ততটা নয়, তবে আমি দেখেছি অনেক মানুষের শৈশবের স্মৃতি যুক্ত রয়েছে সিনেমাটার সঙ্গে। আমার এখনো এমন অনেকের সঙ্গে দেখা হয় যারা আমাকে মনে রেখেছেন জন্তারাম মন্তারাম সিনেমার মধ্য দিয়ে।’

প্রথম অভিনয়ের সময় মানবের বয়স ছিল ২৭ বছর। এ রকম বয়সে একা মুম্বাইয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব। মানব জানান, তিনি থাকতেন মুম্বাইয়ের চাওল এলাকা। সিআইডির এক পর্বে কাজ করলে তিন মাস নিজ খরচ চালাতে পারতেন। এছাড়া লেখালেখির জন্য পাহাড়ে গেলে সেখানে মানুষ বিনা পয়সায় তাকে থাকতে দিয়েছে।

তবে এ নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আপনি বুঝতেই পারবেন না কীভাবে মুম্বাই শহর আপনাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত রাখবে। আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতাম, ক্রিকেট, টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলছি- এ সবকিছুর মধ্যে আমি লেখালেখির জন্য খুব বেশি সময় পেতাম না। কিন্তু পাহাড়ে যেকোনো ঝামেলা ছাড়াই আমি সকাল থেকেই লেখতে পারি। যেমন কিছুদিন আগে আমি দুই মাসের জন্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় গিয়েছিলাম এবং দুটি বই লিখেছিলাম।’

দুটি সিনেমাও পরিচালনা করেছেন। তারপর বন্ধ। এ নিয়ে মানব বলেন, ‘হানসা ও তথাগত; আমার দুটো সিনেমাই ইউটিউবে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করা খুব কঠিন। কারণ আমি পরিচালনার পাশাপাশি সেগুলো প্রযোজনাও করি। তার পরও চিত্রকথন লেখা শুরু করেছি, আশা করি সামনে পরিচালনায় ফিরব।’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যা বালান ও মাধুরী দীক্ষিতের মতো বলিউড ডিভাদের সঙ্গে কাজ করেছেন মানব। তিনি বলেন, ‘‌ভীষণ পরিশ্রমী অভিনেত্রীদের একজন মাধুরী দীক্ষিত। যদিও ক্যামেরার সামনে সবাই কিছুটা ভয় পান, তবে সিনেমায় সবাই তার সেরাটাই দিতে তৈরি থাকেন।’

মানব কওল নিয়মিত লিখছেন। ২০১৬ সাল থেকে তার ১৩টি বই প্রকাশ হয়েছে। প্রথম বই ‘ঠিক তুমহারি পিছে’র সপ্তদশ মুদ্রণ চলছে। একজন সেলিব্রিটি বলেই এমন হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেলিব্রিটিদের লেখা বই কিছু সময় পরে হারিয়ে যায়। আমি এমনকি আমার বইটি নিয়ে তেমন প্রচারও করিনি। কেবল আমার ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম একটি নতুন বই বের হয়েছে।’

মানবের কিছু লেখা বিমূর্ত ধারার। পাঠক তা আদৌ বোঝে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মানব বলেন, ‘আমি নিজেকে ৯৮ শতাংশ লেখক বলেই মনে করি। বাকি ২ শতাংশ অন্য সবকিছু। আমার লেখা নাটকগুলো পরীক্ষামূলক বলা যেতে পারে। আমি এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছি যিনি আমার বইটি নীরবে পড়ছেন। তাই আমি আমার পর্দার নাটকে যা করি তার চেয়ে অনেক বেশি লেখায় করতে পারি।’

মানব মনে করেন, তার বইগুলোর কারণে নাটকগুলোকেও এখন সবাই মূল্য দিতে শুরু করেছে। তার থিয়েটারের কাজগুলো মানুষ দেখতে চায় এ নিয়ে একটি গুঞ্জন আছে এবং তিনি বিষয়টি বেশ পছন্দ করেন। 

কিন্তু প্রচারণায় নেই মানব। সাহিত্যের আসর বা লিটফেস্ট ঘরানার অনুষ্ঠান নিয়ে তিনি বলেন, ‘লিটফেস্টে যদি যাওয়া শুরু করি, তবে আমি লেখালেখি বন্ধ করে দেব। আমি বিষয়টিকে একেবারেই সাদামাটাভাবে দেখি। যারা এ বিষয়গুলো পড়েন, তারা ভিন্ন ধরনের বলে আমি মনে করি। যে কাজটি করি তা হলো আমি যদি কোনো শহরে থাকি, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাঠকদের জানাই। আমি সে পাঠকদের সঙ্গে গল্প করতে পছন্দ করি, যারা লেখার বিষয়ে কথা বলতে চান।’

সূত্র: স্ক্রল ডটইন