এ বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ছিল ‘থাগ লাইফ’। পরিচালক মণি রত্নম। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কমল হাসান। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নায়কান’-এর পর আবার একত্রে দুই মহারথী। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু মুক্তির পর সিনেমাটি কেবল ফ্লপই হয়নি, এটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে হাসাহাসি করেছেন। এ উপহাসের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণের প্রবীণ অভিনেতা নাসের। তার মতে, সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায় আছে।
থাগ লাইফে নাসের নিজেও অভিনয় করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। সম্প্রতি তিনি জানালেন, সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অল্প কথায় সিনেমাকে বাতিল করার প্রবণতা। তিনি আরো জানান, সিনেমাটি ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার পর অনেক দর্শক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং ‘থাগ লাইফ’-এর প্রশংসা করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন যে তারা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে না দেখে ভুল করেছেন। তারা অনলাইনে রিভিউ পড়েই সিনেমাটি না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেসব রিভিউতে এক লাইনে ‘আমার ভালো লাগেনি’, ‘সিনেমা মণি রত্নমের মতো হয়নি’ বলা হয়েছিল।
স্ক্রিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নাসের বলেন, ‘আমার ৪০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় ৭০০টি সিনেমায় কাজ করেছি। আমি সবসময় আমার কাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করেছি, ফলাফল যা-ই হোক না কেন। অনেক ছবিতে আমি ভালো অভিনয় করেও দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারিনি, এমনটা হয়েছে। তাই আমি নিরপেক্ষ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলেছি। তবে থাগ লাইফের বিষয়টা আমার কাছে ব্যক্তিগত ছিল। আমি এখানে সে টিমের সঙ্গে কাজ করছিলাম যারা আমাকে জনপ্রিয়তা ও সাফল্য দিয়েছিল, আমার ক্যারিয়ারে এক মোড় এনে দিয়েছিল।’

অভিনয়ে নাসেরের হাতেখড়ি হয়েছিল কিংবদন্তি পরিচালক কে. বালাচন্দ্রের ‘কল্যাণা আগাথিগল’ (১৯৮৫) দিয়ে এবং এরপর কয়েকটি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু মণি রত্নম ও কমল হাসানের ক্রাইম ড্রামা নায়কানই তাকে অভিনেতার সত্যিকার পরিচিতি দেয় এবং তার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার সবচেয়ে প্রশংসিত কিছু চরিত্রও ছিল মণি বা কমলের সিনেমায়। যেমন ‘থেবর মাগন’, ‘বোম্বে’, ‘রোজা’, ‘ইরুভার’, ‘অন্যে সিভম’, ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ ও ‘মাগালির মাট্টুম’।
থাগ লাইফ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি কমল স্যার একজন পেশাদার অভিনেতা, আরেকজন পেশাদার (মণি) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন। এটা বন্ধুত্বের ব্যাপার ছিল না। কমল স্যার ও মণি রত্নম যেকোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা খোলা মনেই গ্রহণ করতেন।’
সিনেমাটি কেন প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হতে পারেনি, তা নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করে অভিনেতা-পরিচালক নাসের বলেন, ‘আমার মনে হয়, এতে সামাজিক মাধ্যম একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবাই সমালোচক। তারা এক লাইনে সিনেমাকে প্রশংসায় ভাসান বা বাতিল করেন। থাগ লাইফ যখন ওটিটিতে মুক্তি পেল, তখন অনেকেই আমাকে ফোন করে বলেছেন, “এটা তো দারুণ একটা সিনেমা। বুঝতেই পারছি না কেন ফ্লপ করল।” তাই আমার মতে, সামাজিক মাধ্যমের কারণেই প্রথমদিকে ছবিটি সেভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এমন আরো অনেক সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওটিটিতে মুক্তির পর থিয়েটারের চেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছে।’
তবে আরো একটি বিষয় তিনি যোগ করেন। নাসের বলেন, ‘আরেকটা কারণ হতে পারে, মানুষ হয়তো অত্যধিক প্রত্যাশা করে ফেলেছিল। যেহেতু এটি ছিল মণি রত্নম ও কমল হাসানের বহু প্রতীক্ষিত পুনর্মিলন। তবে আমরা যখন কাজ করছিলাম, মনপ্রাণ দিয়ে করেছি। সিনেমাটি তৈরি করার প্রতিটি মুহূর্ত আমরা উপভোগ করেছি। সিনেমার ক্ষেত্রে ফলাফল যে কী হবে, সেটা আগে থেকে বলা যায় না। তবে ছবিটি ভালো করছে না শুনে আমি খুব দুঃখিত না হলেও একধরনের অস্বস্তি অনুভব করেছিলাম। এখন যখন মানুষ ওটিটিতে দেখে প্রশংসা করছে, তখন ছবিটি নতুন করে স্বীকৃতি পাচ্ছে—সেটাই স্বস্তির।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










