বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতা সোহেল মণ্ডল। কাজ করছেন টিভি নাটক, সিনেমা এবং ওটিটিতে। ‘মায়ার জঞ্জাল’ নামে একটি সিনেমার জন্য সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও (বাংলা) পেয়েছেন তিনি। নাটকের কাজ নিয়ে তার ব্যস্ততা এখন বেশি থাকলেও তিনি আলোচনায় আসেন ওয়েব সিরিজ ‘তাকদীর’ দিয়ে। তার বর্তমান কাজ ও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
সবকিছুই থেমে আছে। কোনো কাজই এগোচ্ছে না। সব কাজই এখন বন্ধ। আগামী মাসে শুভ পালের সরকারি অনুদানের একটি শর্ট ফিল্ম ছিল, সেটি পিছিয়েছে, যেহেতু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। তবে অবস্থা ঠিক হলে শুটিং শুরু হবে। নাটকের কিছু কাজ ঈদের আগে করা ছিল আর কিছু হওয়ার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সব বন্ধ।
আপনার অভিনীত ‘বনলতা সেন’ ঠিক কবে মুক্তি পেতে পারে?
আমরা সাধারণ একটা পরিকল্পনা করেছিলাম এ বছর একটা উপযোগী সময়ে মুক্তি দেয়ার। এখন পুরো পরিস্থিতি বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল, বছরের ঠিক কোন সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে। তবে এখন এভাবে বলাটা মুশকিল। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাইয়ের এটা দ্বিতীয় সিনেমা। সিনেমাটির কাজ শেষ। আমরা এর প্রচারণায় নামব। এখন সবকিছু নির্ভর করছে দেশের পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হয় তার ওপর।
ওটিটিতে বর্তমানে কাজের জায়গা কতটা বিস্তৃত হয়েছে ?
শুরুর দিকে আমরা যেভাবে কাজ করছিলাম, তখন সবার জন্য একটা ভালো সম্ভাবনা ছিল। এখন কিছুটা স্থবির হলেও অনেকে কাজ করছেন। কিছু কাজ হচ্ছিল, আবার কিছু কাজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সম্ভাবনার বিষয়টা আসলে বলা যাচ্ছে না। ওটিটিতে ভালো কাজ হচ্ছে, তাই আমরা আশাবাদী যে সামনে আরো ভালো কাজ আসবে। ওটিটি কতটুকু এগোবে তা সেভাবে বলা যাচ্ছে না। তার পরও আশা রাখা যেতেই পারে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনিশ্চয়তাগুলো কাটবে।
ওটিটি ও টিভি নাটকের মধ্যে কী পার্থক্য আছে বলে আপনার মনে হয়?
যারা টিভিতে কাজ করছেন তারা তো করছেনই। এছাড়া সিনিয়র অনেকে ওটিটিতে কাজ করছেন। ওটিটিতে বাজেট একটু বেশি থাকে। কাজটা গুছিয়ে করা যায়। ভালো গল্প করার একটা প্রবণতা থাকে। সবারই একটা চাহিদা থাকে, একটা বড় আয়োজনে ভালো গল্পে কাজ করার। হয়তো সিনিয়র অনেক আর্টিস্ট ওটিটির দিকে ঝুঁকছেন, যার কারণে টিভিতে নতুনদের জায়গা তৈরি হয়েছে। এদেরও তো আসার সুযোগ দিতে হবে। সিনিয়ররা ওটিটিতে কাজ বেশি করায় টিভিতে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। নতুন সম্ভাবনাময় অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী টিভিতে কাজ করছেন।
আর এ দুটির মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি কিছু নেই। সব জায়গায়ই অভিনয় করতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে আমি যতটুকু বুঝি, আমরা যারা কাজ করছি সব মাধ্যমেই কাজ করছি। আমাদের দেশে নির্দিষ্ট কোনো প্লাটফর্মে কাজ করে জীবন চালানো দুষ্কর। আসলে কাজের গল্পটাই প্রধান। যে মাধ্যমে অভিনেতারা ভালো গল্প পাচ্ছেন, সেখানেই কাজ করছেন।
আমরা জানি, আপনি শোবিজে শখের বসে এলেও এখন নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সামনে কতদূর যাওয়ার ইচ্ছা?
আসলে শখের বসে না, বিষয়টা হচ্ছে এখানে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। থিয়েটার করতাম, এর প্রতি একটা প্যাশন ছিল। থিয়েটার করতে করতে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তারপর একে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছাটা তৈরি হয়। সে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া এবং মিডিয়ায় কাজ করতে আসা। এরপর দর্শক ও আপনাদের দোয়ায় কিছু কাজের সুযোগ হয়েছিল এবং সেগুলো হয়তো দর্শক পছন্দ করেছে বলে এখন কাজ করতে পারছি। সামনে একজন অভিনেতা হিসেবে ভালো কাজের মাধ্যমে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই। যেহেতু এটা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি, আশা করছি সুযোগগুলো আমার জন্য সামনেও থাকবে এবং ভালো কিছু করতে পারব। এখানে টিকে থাকতে হলে ভালো কাজ করতে হবে, না হলে টিকে থাকা অসম্ভব। ভালো অভিনেতা হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।
বাংলা সিনেমার সুদিন আসছে বলে আপনার মনে হয় কি?
এটা ওটিটির মতোই বলা যায়। সিনেমার একটা বড় অংশ হচ্ছে যেখানে প্রদর্শনী হবে সে জায়গা, অর্থাৎ সিনেমা হল। কিন্তু এর সংকট রয়েছে আমাদের। সে সংকট যদি কাটানো যায় তবে যে ভালো ভালো কনটেন্ট বানানো হচ্ছে, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ভালোর দিকেই যাবে। যারা সিনেমার কনটেন্ট তৈরি করছেন, তারা একটা সম্ভাবনা তৈরি করছেন। মোটামুটি সীমিত বাজেটের ভেতরও ভালো সিনেমা বানানো যায়, এর প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। সিনেমার জন্য প্রয়োজন ভালো সিনেমা হল এবং ভালো ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম। এ বিষয়গুলোয় নজর দিলে সিনেমা একটা ভালো সম্ভাবনার দিকেই যাবে।
নাটক বা সিনেমায় সুখ বা দুঃখের এমন কোনো স্মৃতি আছে কিনা, যা পাঠকদের বলবেন?
সুখের স্মৃতি এটাই যে একজন অভিনেতা হিসেবে দর্শক আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুঃখের স্মৃতিগুলো না শেয়ার করি। সবার জীবনেই সুখ-দুঃখ থাকে।










