বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী অভিনেতা ধরা হয় টেইলর পেরিকে। নাটক, সিনেমা ও সিরিজের আয় এবং পরবর্তী সময়ে নিজের স্টুডিও প্রতিষ্ঠার কারণে তার সম্পদ বেড়েছে হুহু করে। বর্তমানে এ মার্কিন অভিনেতার সম্পদের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। তবে নারী ও পুরুষ উভয়কে বিবেচনা করে তালিকা তৈরি করা হলে টেইলর পেরির অনেক আগে রয়েছেন অভিনেত্রী জেমি গার্টজ। সোজাকথা, টেইলর পেরির চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ ধনী অভিনয়শিল্পী তিনি। যদিও তার নাম খুব কম মানুষই জানে।
ফোর্বস প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, গার্টজের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি ডলার। সম্পদের এ পরিমাণ দুনিয়ার যেকোনো অঙ্গনে থাকা অন্য তারকার চেয়ে বেশি। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ অভিনেতার সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। আরো স্পষ্ট করে বললে সম্পদশালী অভিনেত্রীর তালিকায় যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা টেইলর সুইফট, রিহানা ও সেলেনা গোমেজের সম্মিলিত সম্পদের চেয়ে গার্টজের সম্পদ বেশি। টেইলর সুইফটের সম্পদ ১৬০ কোটি ডলার। রিহানার ১৪০ কোটি ডলার ও সেলেনা গোমেজের সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার।
তবে একটা বিষয় বেশ গুরুত্ব দেয়ার মতো। সম্পদশালী অভিনেত্রীদের তালিকায় থাকা প্রথম পাঁচজনই মূলত আয় করেছেন অভিনয়ের বাইরে থেকে। গার্টজ অভিনয়ের বাইরে বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়। বাকিদের জন্য রয়েছে মিউজিকের ক্যারিয়ার কিংবা মেকআপ ব্র্যান্ডের ব্যবসা। পুরোদস্তুর অভিনয়ে ক্যারিয়ার করেছেন, সম্পদশালীদের কাতারে এমন প্রথম ব্যক্তি রিজ উইদারস্পুন, যার অবস্থান সাতে। শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছেন একমাত্র ভারতীয় অভিনেত্রী জুহি চাওলা।
মার্কিন অভিনেত্রী জেমি গার্টজ জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৬৫ সালে শিকাগোয়। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম রুপালি পর্দায় পা রাখেন, সিনেমার নাম ‘এন্ডলেস লাভ’। ১৯৮৭ সালে তিনি রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের বিপরীতে ‘লেস দ্যান জিরো’তে অভিনয় করেন। একই বছর অভিনয় করেছেন ভ্যাম্পায়ার ড্রামা ‘দ্য লস্ট বয়েজ’। তার পরও কাজ করেছেন নানা সিনেমা ও টিভি শোতে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকা অবস্থায় গার্টজ কখনো বক্স অফিসে সাফল্য দেখেননি। ফলে অনেকটা সচেতনভাবেই তিনি সহ-অভিনেত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকের সিনেমা ও টিভি শোতে তাকে দেখা যেতে থাকে পার্শ্বচরিত্রে। এভাবেই এগিয়েছে তার রুপালি পর্দার পথচলা। সর্বশেষ ২০২২ সালে ‘আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক’ সিনেমায় ক্যামিও হিসেবে দেখা গেছে তাকে।
জেমি গার্টজের অভিনয় ক্যারিয়ার সে অর্থে উজ্জ্বল নয়। তবে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। ১৯৮৯ সালে তিনি মার্কিন বিলিয়নেয়ার টনি রেসলারকে বিয়ে করেন। তারা দুজনে মিলে মার্কিন টুর্নামেন্টের বেজবল ও বাস্কেটবলের দুটি দল কিনেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ। সেখান থেকেও তিনি পান প্রভূত সম্পদ। ফলে তার সম্পদের আকারে অভিনয়ের ভূমিকা অনেকটা গৌণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










