গত বছর অস্কারে ভারতের বরাত ছিল ভালো। একদিকে ‘নাটু নাটু’র সেরা গান হওয়া ও অন্যদিকে সেরা তথ্যচিত্র হয়েছিল ‘দি এলিফ্যান্ট হুইসপারারস’। যদিও তথ্যচিত্র প্রযোজক গুনিত মোঙ্গা ও পরিচালক কার্তিকী গনজালভেসের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তথ্যচিত্রের মূল আকর্ষণ বোমান ও বেলি। বিষয়টি সমালোচিত হয়েছিল, অস্কার কমিটিরও নজরে এসেছিল। তবে এসব পাশ কাটিয়ে এবারো একটি ভারতীয় তথ্যচিত্র মনোনীত হয়েছে অস্কারে। ‘টু কিল আ টাইগার’ নামে এ তথ্যচিত্রের নির্মাতা দিল্লির নিশা পাহুজা।
টু কিল আ টাইগার নির্মিত হয়েছে রণজিৎ নামের এক ব্যক্তির জীবনের গল্প নিয়ে। তার মেয়ে তিন ব্যক্তির দ্বারা যৌন নিগ্রহের শিকার হলে রণজিৎ বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন। এ চলচ্চিত্রের সারাংশ হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘ভারতের ঝাড়খণ্ডের এক কৃষক রণজিৎ। টু কিল আ টাইগার তারই গল্প। ১৩ বছরের কন্যার যৌন নিগ্রহের ঘটনার পর রণজিৎ বিচার চান। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিয়েই অভিযোগ দায়ের করা হয়। সে জায়গায় রণজিৎ বিচারের দাবি তুলেছিলেন।’
তথ্যচিত্রটি এর আগে ২০২২ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেখানে কানাডীয় ফিচার ফিল্ম বিভাগে ‘টু কিল আ টাইগার’ অ্যামপ্লিফাই ভয়েসেস অ্যাওয়ার্ড জয় করে। এবার অস্কারের জন্য ডকুমেন্টারি ফিচার বিভাগে মনোনীত হয়েছে তথ্যচিত্রটি। ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ড অব কানাডার পাশাপাশি এ তথ্যচিত্রের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার মিন্ডি ক্যালিং ও দেব প্যাটেল।
টু কিল আ টাইগার নিয়ে মিন্ডি ক্যালিং বলেন, ‘গল্পটি দেখায় পরিবারের একাত্মতা থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি নিয়ে দাঁড়ানো যায়। আর নিশা একজন চমৎকার কথক। তিনি গল্পটা দারুণভাবে বলেন। এ তথ্যচিত্র সবারই দেখা উচিত।’
নিশা পাহুজা ১৯৭০ সালে ভারত থেকে কানাডা যান। সেখানেই থিতু হন। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করেছেন। সিবিসির ‘সাম কাইন্ড অব অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামের তথ্যচিত্রে কাজ করেছেন। এছাড়া কানাডার নির্মাতা জন ওয়াকার ও আলি কাজমির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে নিশার। ২০১২ সালে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘দ্য ওয়ার্ল্ড বিফোর হার’। ২০১৪ সালে তথ্যচিত্রটি ভারতে মুক্তি পায়। ভারতে মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে নিশাকে সহযোগিতা করেছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ।
সূত্র: ইয়ন










