কোরিয়ান সিনেমার নব্বইয়ের দশকের গল্প বা আধুনিক কোরিয়ান সিনেমা নিয়ে আগ্রহীদের ক্ষুধা মেটাবে নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘‌ইয়েলো ডোর: নাইন্টিজ লো-ফি ফিল্ম ক্লাব’। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন লি হুক-রে। এর কেন্দ্র অস্কারজয়ী নির্মাতা বং জুন-হো। প্যারাসাইটের জন্য তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে বাড়ির বেজমেন্টে নির্মাণ করেছিলেন ‘‌লুকিং ফর প্যারাডাইস’। সে সিনেমা থেকেই গল্প শুরু করবে ইয়েলো ডোর। তথ্যচিত্রটিকে বলা হচ্ছে সিনেমাপ্রেমীদের জন্য একটি প্রেমপত্র।

ইয়েলো ডোরের নির্মাতা লি হুক-রে তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে কোরিয়ায় স্বনামে পরিচিত। তার মতে, ইয়েলো ডোর এর দর্শককে নিয়ে যাবে সিউলে। নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকের দক্ষিণ কোরিয়া দেখতে পাবেন দর্শক। সে সময় কোরিয়ায় ফিল্ম ক্লাব নতুন করে যাত্রা করেছিল। দেশটি তখন কেবল বেরিয়েছে আশির দশকে হওয়া ছাত্রদের প্রো-ডেমোক্রেসি আন্দোলন থেকে। এ সময় সেখানে তৈরি হয়েছিল সিনেমাপ্রেমীদের এক ভিন্ন যাত্রা। তারা নানা ফিল্ম ক্লাবের সূচনা করেছিল। এর মধ্য দিয়ে সিনেমাকে নতুন ধারায় দেখা শুরু হয় কোরিয়ায়। বর্তমান কোরিয়ান সিনেমার যে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা, এর পটভূমি তৈরি হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুতে।

বং জু হোর সিনেমাটি এগোয় ‘‌ইয়েলো ডোর সিনেমা ক্লাব’ নিয়ে। এর একজন সদস্য ছিলেন তিনি নিজে। তার কাজ ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাস্টারপিস সিনেমা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। এ ক্লাবের আরেক সদস্য ছিলেন লি হুক-রে। আর এ ক্লাব সদস্যদের সামনেই বং তার প্রথম সিনেমা ‌লুকিং ফর প্যারাডাইস প্রদর্শন করেছিলেন। তাকে নিয়ে নির্মিত এ তথ্যচিত্র এ বছর বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘‌সিনেফাইল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি নিয়ে দ্য হলিউড রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা লি হুক-রে। এ কথোপকথনে তথ্যচিত্রটির পাশাপাশি উঠে এসেছে কোরিয়ান সিনেমার বিবর্তনের কথা।

ইয়েলো ডোর নির্মাণ প্রসঙ্গে লি জানান, তার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল পুরনো বন্ধুদের একত্র করা। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের ইয়েলো ডোর ক্লাবের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এটা করতে চেয়েছিলাম। একটা রি-ইউনিয়নের মতো হতো। আমরা কথা বলছিলাম সিনেমা ৩০ বছর আগে কেমন ছিল তা নিয়ে। এরপর মনে হলো একটা তথ্যচিত্র করি। বংকে এ কথা বলার পর তার একটাই শর্ত ছিল। সে সিনেমার একমাত্র কেন্দ্র হতে চায়নি। সে বলেছিল, তাকে ইয়েলো ডোরের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবেই দেখানো হোক।’

প্রাথমিক কথাবার্তা হওয়ার পর একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করে নেটফ্লিক্সের কাছে দিয়েছিলেন লি। তারা প্রথমে অবাক হয়েছিল, কেননা বংকে মূল হিসেবে রাখা হয়নি। সংক্ষিপ্তসার তিনি দিয়েছিলেন নেটফ্লিক্সের কনটেন্ট ম্যানেজার হানা মুরের কাছে। দেখা গেল তিনিও ইয়েলো ডোরের স্টাডি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমন নানা গল্পই যুক্ত হয়েছে তথ্যচিত্রটি নির্মাণের সঙ্গে। লি বলেন, ‘‌এরপর আমাদের এ নিয়ে নানা কথা হয়। আমরা বুঝতে পারি, ইয়েলো ডোরের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রছাত্রীরা এখন বিশ্বের নানা জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এতে করে এটি আরো বেশি বৈশ্বিক হয়ে উঠেছে।’

ইয়েলো ডোরের এ বৈশ্বিক হয়ে ওঠার কারণেই তথ্যচিত্রে কোরিয়ান সিনেমার একটি সময়ের গল্প বলার চিন্তা আসে লির মাথায়। তিনি বলেন, ‘‌আমরা একটা সময় সিনেমার প্রেমে পড়েছিলাম। এর সঙ্গে ছিল বই, সংগীত ও নানা আর্ট। আমাদের সে ভালোবাসা ও প্যাশনের গল্পটা এ চলচ্চিত্রে আনার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, কেবল কোরিয়া নয়, বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলেই এ ধরনের ভালোবাসা বা সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে কিছু মানুষ। তারাও নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে ইয়েলো ডোরের গল্প।’

লি জানাচ্ছেন, ইয়েলো ডোর থেকে কতজন সিনেমার নানা ক্ষেত্রে কাজ করছে এখন তা বলা মুশকিল, তবে অন্তত ১২ জন নানা ক্ষেত্রে খ্যাতি পেয়েছেন। তাদের সে গল্প এখানে নেই, কিন্তু নব্বইয়ের দশকে সিনেমাপ্রেমী কিছু মানুষ কেমন করে সিনেমার পেছনে ছুটেছিল সে গল্পটা লি বলছেন। এশিয়ান সিনেমার ইতিহাস পাওয়া যাবে কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আমাদের গল্পটা এমন কিছু মানুষ নিয়ে যারা সিনেমা ভালোবাসত। তাদের যাত্রাটা আমরা ধরার চেষ্টা করেছি।’ লি বলতে চান, তাদের গ্রুপের মাধ্যমে কোরিয়ান সিনেমার প্রতি ভালোবাসাটা তারা দেখাতে পারবেন, সেখানে হয়তো সিনেমা এগিয়ে যাওয়ার কথাও থাকবে।

দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান