বলিউডের অভিনেত্রীরা নানা নিরীক্ষা করতে চান। গ্ল্যামারাস নায়িকা থেকে তারা হয়ে উঠতে চান পুরোদস্তুর একজন শিল্পী। তবে বলিউডের নির্মাতাদের (প্রযোজক, পরিচালক) সবাই এখনো অভিনেত্রীদের নিয়ে নিরীক্ষায় ততটা সাবলীল নন। ইচ্ছুকও নন। অভিনেত্রী হুমা কোরেশী মনে করেন, বলিউড এখনো অভিনেত্রীদের ‘সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য’ মনে করে। 

হুমা বলেন, ‘প্রচলিত ধারা হলো যত বড় তারকা, তার পেছনে তত বেশি বিনিয়োগ করবেন নির্মাতারা। পারিশ্রমিক তাদেরই বেশি দেয়া হয়। অনেক সময় এমন হয়, অল্প স্ক্রিনটাইম বা ছোট একটা চরিত্র করার পরও একজন বড় তারকা বেশি পারিশ্রমিক পান।’

আলিয়া ভাট অভিনীত ‘‌গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’তে একটি ডান্স নাম্বার করেছিলেন হুমা কোরেশী। প্রশংসিত হয়েছিলেন এ পারফরম্যান্সের জন্য। কিন্তু এ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা আলিয়া ভাটের তারকাখ্যাতি অনেক। এ নিয়ে হুমা বলেন, ‘এ সিনেমায় আলিয়ার ছোট একটা চরিত্র থাকলেও তিনিই বেশি পারিশ্রমিক পেতেন। এমনিতেও গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীর খাতায় উঠেছেন।’

কিন্তু আলিয়ার তারকাখ্যাতি আবার অভিনেতাদের সামনে ফিকে হয়ে যায়। হুমা জানান, আলিয়ার সামনে একজন অভিনেতা থাকলে তিনিই (অভিনেতা) বেশি পারিশ্রমিক ও মনোযোগ পাবেন। হুমা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একজন অভিনেত্রী তার সমপর্যায়ের একজন তারকা অভিনেতার সমান পারিশ্রমিক পান না। এর একটা কারণ হলো সিনেমার গল্প বেশির ভাগ সময়ই পুরুষকেন্দ্রিক।’

হুমা কোরেশী বলিউডের বেশকিছু চর্চিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে আছে ‘‌গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’, ‘‌বদলাপুর’, ‘‌মনিকা ও মাই ডার্লিং’, ‘‌এক থি ডায়ান’, ‘‌ডি-ডে’ ইত্যাদি। এগুলোর সব বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার না হলেও সিনেমাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

হুমা নিজেও সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। তার প্রযোজনায় ২০২২ সালে নির্মিত সিনেমা ডবল এক্সেলে অভিনয় করেছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। প্রযোজনা নিয়ে হুমা বলেন, ‘আমি যদি একটা নারীকেন্দ্রিক ও একটি নায়ককেন্দ্রিক অ্যাকশন সিনেমা বানাতে চাই, তাহলে দ্বিতীয় সিনেমাটির জন্যই বেশি বাজেট পাব। এক্ষেত্রে স্টুডিওগুলো বাগড়া দেয়। এমনকি কোনো শিল্পীকে বদলাতে বা বাদ দিতে হলে তারা অভিনেত্রীদের দিয়েই শুরু করে। কেননা তারা অভিনেত্রীদের প্রতিস্থাপনযোগ্য মনে করে। নির্মাতারা আমাদের সহজেই বাদ দিতে পারেন।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস