মুন্নাভাই এমবিবিএস এখন একটি কাল্ট সিনেমা হিসেবেই পরিচিত। আর এ সিনেমায় অভিনয় করে নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আরশাদ ওয়ার্সি। সার্কিট চরিত্রটি এত জনপ্রিয় হয় যে সে সময় অনেকেই সার্কিটের মতো পোশাক পরত। ভারতে সার্কিটের ভাষায় কথা বলাও তখন ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এ চরিত্র নিয়ে একদমই আশাবাদী ছিলেন না আরশাদ ওয়ার্সি। যখন তিনি চরিত্রটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হন, তখনো তার মনে হয়েছিল চরিত্রটি তেমন ভালো কিছু নয়। এমনকি তার ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন সন্দেহও করেছিলেন। সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চরিত্রটি তিনি করেছিলেন। কেননা রাজকুমার হিরানীকে তিনি পরিচালক হিসেবে পছন্দ করতেন।
সাক্ষাৎকারে আরশাদ বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, এ চরিত্র করার পর আমার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যাবে। হয়তো ওটাই হবে আমার শেষ সিনেমা। এমন একটা পাতি সন্ত্রাসীর চরিত্রে অভিনয়ের কথা আমি চিন্তাই করিনি। আরো সন্দেহ ছিল, কেননা মকরন্দ দেশপাণ্ডে চরিত্রটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তারাও মনে হয়েছিল, এ চরিত্র দর্শক গ্রহণ করবে না।’
কিন্তু চরিত্রটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এক্ষেত্রে আরশাদ মনে করেন, একটি চিত্রনাট্যে চরিত্রের সম্পর্কে পড়ে স্পষ্ট তাকে বোঝা যায় না। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আপনি তাকে দেখবেন কাগজে থাকা লেখা হিসেবে। একটা পাতি মাস্তান যে কিনা আরো চারজনের সঙ্গে নায়কের আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। এমন একটা চরিত্র করে আমার কী লাভ হবে? আমার তো মনে হয়, প্রথম সিনেমাটা করার সময় সাঞ্জুও চরিত্রটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল না। আর আমার মনে হয়েছিল, সিনেমা হিট করলেও আমাকে আর কে দেখবে। ফ্লপ হলেও তাতে আমার কিছু আসবে যাবে না।’
যে চরিত্র শুরুতে পছন্দ করেননি, সে চরিত্রেই কেন আরশাদ অভিনয় করেছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে আমি রাজুকে পছন্দ করতাম। সে একজন ভালো মানুষ ও একজন ভালো পরিচালক। গল্পটা আমার ভালো লেগেছিল। সিনেমাটাও ভালো হবে জানতাম। কিন্তু এমন একটা সিনেমা কেউ হলে দেখতে যায় না। যেত না। আপনি যেতেন এ ধারার সিনেমা দেখতে? তাই আমি রাজুকে বলেছিলাম, অভিনয়টা উপভোগ করতে চাই।’
কিছু পাওয়ার আশা না করে চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন আরশাদ। আর এখন বলাই যায়, চরিত্রটিতে আরশাদ যেভাবে অভিনয় করেছিলেন সে কারণেই সার্কিট অন্য মাত্রা পেয়েছে।
সূত্র ও ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস










