গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত সিনেমা ‘কাজল রেখা’ আছে মুক্তির অপেক্ষায়। নির্মাতা এরই মধ্যে জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। মৈমনসিংহ গীতিকার ‘কাজল রেখা’ অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণ করছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। গত বছরই কয়েক লটে এ সিনেমার শুটিং হয়েছে। এখন সিনেমা প্রচারণায় মন দিয়েছে কাজল রেখা টিম। গতকাল ছিল বাংলাদেশ বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে খেলা হয়েছে। ম্যাচটি ঘিরে প্রচারণা চালায় কাজল রেখা টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। 

কাজল রেখা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা দেখতে আমরা কাজল রেখার একটা ছোট টিম কলকাতা এসেছি। কাজল রেখার নায়ক-নায়িকা শরিফুল রাজ ও মন্দিরা চক্রবর্তী এবং আমিসহ আরো কয়েকজন আমরা ইডেনের মাঠে খেলা দেখেছি। বলা যায়, বাংলাদেশের খেলার মধ্য দিয়ে আমরা সফট আকারে কাজল রেখার প্রচারণা ক্যাম্পেইন শুরু করব। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য কলকাতার ইডেনে বাংলাদেশের খেলা দেখা। হার জিতে যাই হোক বাংলাদেশ।’

কাজল রেখার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করবেন শরিফুল রাজ ও নবাগত চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তী। বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালাম, খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মানসহ অনেকে। এ সিনেমায় কংকন দাসী চরিত্রে অভিনয় করছেন মিথিলা আর সুচ কুমার চরিত্রে শরিফুল রাজ। কলকাতা থেকে মন্দিরা বলেন, ‘আমাদের পূর্ব পরিকল্পনাই ছিল যে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার মাঠ থেকেই আমাদের কাজল রেখা সিনেমার প্রচারণা শুরু হবে। যেহেতু বিশ্বকাপ ক্রিকেট, তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি থাকবে খেলার দিকে। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে ইডেন গার্ডেনের মাঠে উপস্থিত হওয়া ও পাশাপাশি আমাদের সিনেমার প্রচার করাই আমাদের উদ্দেশ্য। সেলিম ভাই, রাজ আমরা প্রবল আগ্রহ নিয়ে এখানে এসেছি। সবকিছু ঠিকঠাকমতো হচ্ছে।’

কাজল রেখার নির্মাতা ও সহশিল্পীদের প্রসঙ্গে মন্দিরা বলেন, ‘‌দেশের বাইরে নিজেদের সিনেমার প্রচারণা শুরুর কারণে অবশ্য নিজেদের সিনেমার অনেকেই ভিসা পাইনি, না থাকার কারণে। তবে আমাদের বিশ্বাস, পুরো টিমই আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা মনে করি, কাজল রেখা মুক্তির দিন থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত সবাই আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এটা সত্যি, এ সিনেমার মুক্তি নিয়ে আমরা সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এতে আমার সহশিল্পী হিসেবে শরিফুল রাজ দারুণ অভিনয় করেছেন। আশা করছি, সিনেমাটি দর্শকের ভালো লাগবে। দীর্ঘ একটি সময়ের অপেক্ষার পর দর্শকের মন ভরে যাবে কাজল রেখা দেখে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সেলিম ভাইয়ের কাছে, কারণ তিনি আমাকে এমন একটি সিনেমায় নাম ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ 

মন্দিরা জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার আগে ৩১ অক্টোবর তারা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা উপভোগ করবেন কলকাতার ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে। সেখানেও ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের সিনেমার প্রচারণা করবেন তারা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলকাতার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে কাজল রেখার কলাকুশলীরা। 

কাজল রেখা মূলত একটি রূপকথার গল্প, যেটি ৪০০ বছর আগের কাহিনী। রূপকথার গল্প নিয়ে এ সিনেমায় গান ও আবহ সংগীতের ব্যবহারে ভিন্নতা থাকছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘‌কাজল রেখা মিউজিক্যাল ফিল্ম। ২০টির বেশি গান আছে এ সিনেমায়। এতে মানুষ যেমন গান করে আবার পাখিও গান করে। মৈমনসিংহ গীতিকার কাজল রেখা পালার পরিবর্তন না করেই আমরা কাজ করছি।কাজল রেখার মিউজিক ডিরেক্টর ইমন চৌধুরী। আর ৩০ জনের একটা টিম এ গানগুলো গেয়েছেন। এর মধ্যে একদম নতুন শিল্পীরাও যেমন ছিলেন, আবার দেশবরেণ্য শিল্পীরাও ছিলেন। যেমন অবন্তী সিঁথি, মাশার মতো অনেকেই আছেন।’ 

কাজল রেখা সিনেমাটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত। গত এপ্রিলে শুরু হয়েছিল এর শুটিং। পরিচালনার পাশাপাশি এ সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ বিন্যাস করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। ‘‌মনপুরা’ দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন সেলিম। তার নির্মিত সিনেমাগুলো পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। এবার অপেক্ষা কাজল রেখা হলে মুক্তি পাওয়ার।