উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ছয় দশক ধরে বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য ২০ হাজারের মতো গান রচনা করেছেন তিনি। গীতিকবিতায় অবদান রাখার জন্য ২০০২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তার মেয়ে দিঠি আনোয়ারও গান নিয়েই ব্যস্ত। সংগীত ভুবনে ৩০ বছর ধরে পদচারণা দিঠির। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা সূর্যমুখী’র উদ্যোগে এক সংগীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ৩০ বছরের যাত্রা উদযাপন করতে যাচ্ছেন তিনি।

আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ আয়োজন হতে যাচ্ছে। এটি উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আ আ ম স আরিফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। সূচনা বক্তব্য দেবেন আমরা সূর্যমুখীর নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সেলিম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন দিঠির মা জোহরা গাজী, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী, প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহাসহ আরো অনেকে। 

সংগীত জীবনে পথচলার ৩০ বছর এবং আজকের আয়োজন প্রসঙ্গে দিঠি আনোয়ার বলেন, ‘আমি শুরুতেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, সেলিম চাচাকে আমার ৩০ বছরের পথচলাকে উৎসবে পরিণত করার জন্য। নিঃসেন্দহে আজ আব্বু বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, আব্বু আছেন তার গানের মধ্যদিয়ে সবার মনে প্রাণে। আমি আব্বুর লেখা পুরনো দিনের কিছু গান আজ শ্রোতা দর্শককে শোনাব। সেই সঙ্গে তিনি কিছু গান লিখে গেছেন, সেসব গানও শোনাব। আমার সঙ্গে অপু, ইউসুফও গাইবে। সবাইকে বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি, অনুষ্ঠানে আসার জন্য। আশা করছি, আজকের আয়োজন উপভোগ্য ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে।’ দিঠির সংগীতে হাতেখড়ি আট বছর বয়সে। বাবাই তাকে জন্মদিনে হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন সে বয়সে। শুরুতেই ওস্তাদ ইয়াসিন হোসেন খানের কাছে গানে উচ্চাঙ্গ সংগীতে তালিম নেন। ‘উল্কা’ সিনেমায় তিনি প্রথম প্লে-ব্যাক করেন। এখন অবধি দিঠির চারটি একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে। ৬০-এরও বেশি সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন তিনি।