দক্ষিণ ভারতের সিনেমা এখন ভারতে সুনাম ও স্বনামে চলছে। পাশাপাশি পিছিয়ে গেছে বলিউডের সিনেমা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলিউডের দর্শকদের উদার মনোভাবের প্রভাব আছে বলে মনে করেন শহীদ কাপুর। সম্প্রতি প্রাইমের সিরিজ ফারজি দিয়ে ফর্মে ফেরা শহীদকে আবার দেখা যাচ্ছে আলী আব্বাস জাফরের ‘‌ব্লাডি ড্যাডি’তে। অ্যাকশন ঘরানার এ সিনেমার প্রচার ও সিনেমা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরো নানা বিষয় উঠে আসে। সেখানেই শহীদ বলেন যে দক্ষিণেরও উচিত বলিউডের সিনেমাকে আরো বিস্তৃতভাবে গ্রহণ করা।

বলিউডের সিনেমা খারাপ করা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমাদের সিনেমার একটা অত্যাবশ্যক অংশ ছিল বিদেশের লোকেশন। কভিড-১৯ মহামারীর সময় বাইরে গিয়ে শুটিং করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিয়মিত দর্শকের কাছে সিনেমা কিছুটা পানসে মনে হয়েছে।’ কিন্তু তাতেও খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। সিনেমা যেগুলো তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই দেখেছেন এবং সিনেমাগুলো ভালো ব্যবসাও করেছে। শহীদ বলেন, ‘‌আমাদের নিজস্ব একটা ধারা আছে অ্যাকশন সিনেমার। আর সেখানে সালমান খান, অজয় দেবগন, অক্ষয় কুমারদের সিনেমাগুলো ভালো করেছে। হিন্দি সিনেমা তার নিজস্ব জায়গায় ঠিকই আছে।’

সব সিনেমা একটি বড় বলয়ের হয় বলেই মনে করেন শহীদ। এগুলোকে অঞ্চলভেদে ভাগ করা উচিত নয়। কিন্তু এরই মধ্যে একটা ভাগ হয়ে গেছে, তা জানেন শহীদ। যদিও দক্ষিণের অভিনেতারাও এ ভাগযোগ মানেন না। কিন্তু দক্ষিণের সিনেমা বলিউডের দর্শকের কাছে যতটা গ্রহণীয়, দক্ষিণে বলিউডের সিনেমা ততটা কখনই গ্রহণ করা হয় না।

সিনেমার বিনিময় বা গ্রহণ করা নিয়ে শহীদ বলেন, ‘‌আমার মনে হয় না, আমাদের কোনো রেখা টানা উচিত। আর তামিল, তেলেগু, মালয়ালম সিনেমার দর্শকদের জন্য আমি বলব, ‌আপনারাও হিন্দি সিনেমা দেখুন। হিন্দি সিনেমার দর্শক তো উদারভাবে দক্ষিণের সিনেমাকে আপন করে নিয়েছে। আপনারা আমাদের সিনেমাকে আপন করে নিলে হিন্দি সিনেমা আরো বড় হয়ে উঠবে।’

শহীদ কাপুর বলতে চান সিনেমার ক্ষেত্রে সীমারেখা না টেনে বা অঞ্চলভেদে ভাগ না করে সবারই সব ধরনের সিনেমা দেখা উচিত। তিনি বলেন, ‘‌উভয় দিক থেকেই সমান আগ্রহ থাকলে বা দেখালে সিনেমার জন্য সেটা ভালো হয়। এছাড়া আমার মনে হয় সবার সঙ্গে সবার কাজ করা উচিত।’ শহীদ কাপুরের ওটিটি অভিষেক হয়েছিল দক্ষিণের নির্মাতা জুটি রাজ অ্যান্ড ডিকের হাত ধরে। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস