ওয়ার্নার ব্রোস ও ডিসি স্টুডিও নিজেদের নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সে চেষ্টা করতে গিয়ে পদক্ষেপটা হয়ে গেছে মার্ভেল অনুসারী। মার্ভেল এক যুগের বেশি সময় ধরে তৈরি করে মাল্টিভার্স। ডিসি তাদের সিনেমায় ঠিক এ বিষয়ই আনার চেষ্টা করেছে। মার্ভেলের কল্যাণে সুপারহিরো সিনেমায় মাল্টিভার্স এখন জনপ্রিয় বিষয়। ফলে ডিসি যখন নতুন করে তাদের কনটেন্ট সাজানোর চেষ্টা করল, নিয়ে এল বিষয়টি। সে কারণে ‘‌দ্য ফ্ল্যাশ’ সিনেমায় ‘‌ফ্ল্যাশ টাইম প্যারাডক্স’ মুখ্য হলেও তারা মুখ্য করে ফেলেছিল মাল্টিভার্স। এছাড়া তারা সুপারম্যানের চরিত্র থেকে বাদ দিয়েছে হেনরি ক্যাভিলকে। এসব নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ‘‌ম্যান অব স্টিল’ সিনেমার গল্পকার ডেভিড গোয়ের। তার মতে, এখনই মাল্টিভার্স তৈরি না করে সুপারম্যানের সিকোয়াল নির্মাণে মন দেয়া উচিত ছিল ডিসির।

সম্প্রতি জশ হরউইটযের ‘‌হ্যাপি স্যাড কনফিউড’ পডকাস্টে এসেছিলেন ডেভিড। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌আমরা ডিসি থেকে একটা চাপের মধ্যে ছিলাম। তারা বলছিল, ‘‌‌আমাদের নিজেদের এমসিইউ দরকার।’ বারবারই আমাদের এ কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমার কথা ছিল ধীরে চলার সময় হঠাৎ দৌড়তে শুরু করার সিদ্ধান্তটি কোনো ভালো ফল আনে না।’ ডিসি তাদের সিনেমা দিয়ে দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। ভালো ব্যবসাও দিতে পারেনি। সে অবস্থায় ডিসির নেতৃত্বও বারবার বদলাচ্ছিল বলে কোনো পরিকল্পনায় তারা স্থির হতেও পারছিল না। ডেভিড বলেন, ‘‌প্রতি ১৮ মাসে সেখানে নতুন কেউ এসে বসতেন। আর আমরা পড়তাম চাপের মুখে। সবার একই কথা ছিল। তারা বলতেন, ‘‌‌আমরা বড় হয়ে উঠব।’

নব্বইয়ের দশকে ডিসির কমিক থেকে ওয়ার্নার ব্রোস যেভাবে ব্যবসাসফল সিনেমা পেত তা গত দশক থেকে আর পায়নি। ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাটম্যান সিরিজের পর থেকেই ডিসি অনেকটা শূন্য। ডেভিড নিজে এ সিনেমায় কাজ করেছিলেন। এরপর তিনি কাজ করেছেন জ্যাক স্নাইডারের ম্যান অব স্টিলে। ওয়ার্নার ব্রোসের কাজকর্ম তাই তিনি দেখেছিলেন একদম ভেতর থেকে। তিনি বলেন, ‘‌ওয়ার্নার ব্রোসের এক সময়ের প্রধান বলেছিলেন যে পরবর্তী ১০ বছরে ২০টি সিনেমা মুক্তি দেয়া হবে। কিন্তু সেসব সিনেমার কোনোটির গল্প তখনো লেখা হয়নি। তারা হাওয়ায় তাসের ঘর বানিয়েছিল। এভাবে তো পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখে না।’

ডেভিড কেবল একজন গল্পকারই নন, তিনি একজন নির্মাতাও। বিখ্যাত ‘ব্লেড’ সিরিজের তৃতীয় সিনেমা ‘ব্লেড: ট্রিনিটি’ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। এ সময় ডেভিড ফিঞ্চারের সঙ্গে কাজ করেছেন গোয়ের। সিনেমার কাজ কী রকম হওয়ার কথা সে বিষয়ে গোয়ের বলেন, ‘‌আমরা প্রযোজক খুঁজছিলাম। সে সময় একদিন ফিঞ্চার আমাকে একটা অফিসে নিয়ে গেল। বিরাট টেবিলে সে খুলে রাখল ফটোগ্রাফির ওপর নানা বই। তারপর সে বলল, ‘‌‌এই হচ্ছে সিনেমা।’ এ কথার মাধ্যমে গোয়ের বোঝাতে চাইলেন, বড় পরিসরের সিনেমা নির্মাণের আগে তা নিয়ে যথেষ্ঠ গবেষণা করার প্রয়োজন। 

ডেভিড গোয়ের মনে করেন ফ্ল্যাশের মধ্য দিয়ে মাল্টিভার্স না এনে সুপারম্যান ও ব্যাটম্যানের মধ্য দিয়ে একটি ইউনিভার্স তৈরি করা উচিত ছিল। কেননা তিনি সিনেমার পাশাপাশি সম্ভাবনা দেখেছিলেন হেনরি ক্যাভিলের মধ্যেও। ২০১৩ সালে ম্যান অব স্টিলের পরে সুপারম্যান হিসেবে হেনরি ক্যাভিল নিজেকে প্রকাশ করার মতো সুপারম্যান চরিত্র পাননি। গোয়ের তাই বলেন, ‘‌সে সময় ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানকে কেন্দ্রে রেখে ইউনিভার্স তৈরি করা যেত কিন্তু সে রকম কোনো কাজই তারা করেননি।’

সূত্র: ভ্যারাইটি