সিলভেস্টার স্ট্যালোন ও আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার আশির দশক থেকে তাদের অ্যাকশন সিনেমার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। নেটফ্লিক্স ডকুসিরিজ আর্নল্ডের অংশ হিসেবে শোয়ার্জনেগারের সঙ্গে নিজের পুরনো শত্রুতার কথা স্মরণ করছেন স্ট্যালোন। তিনি জানিয়েছেন, সে সময় ব্যাপারটি বেশ তিক্ত হয়েছিল।
স্ট্যালোন বলেন, ‘আমাদের জন্য আশির দশক আকর্ষণীয়, কারণ নির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন গাই’ তখনো তৈরি হয়নি। "সে সময় পর্যন্ত অ্যাকশন ছিল বুলিট বা দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন সিনেমার মতো গাড়ি নিয়ে তাড়া করা। এছাড়া নির্মিত হতো বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক চলচ্চিত্র।’ স্ট্যালোন নির্দিষ্ট করেই বলেন, ‘১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘‘ফার্স্ট ব্লাড’’ সিনেমার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে অ্যাকশন সিনেমা শুরু হয়। এসব সিনেমায় গল্প বলার জন্য আমাকে আসলে আমার শরীরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। সংলাপের প্রয়োজন ছিল না। আমি দেখেছি যে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কারণ অন্য কেউ এ ধারার অভিনয় করে না, কেবল অস্ট্রিয়ার একজন অভিনেতা ছাড়া। তার সম্পর্কে এখন আর বেশি কিছু বলার দরকার হয় না।’"
রকি সিনেমায় অভিনয় করে স্ট্যালোন বেশ নাম করেন। শোয়ার্জনেগারের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার যখন র্যাম্বো টুয়ের মতো চলচ্চিত্র এসেছে, আমাকে তখন সেটিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উপায় বের করতে হয়েছিল।’
দ্য টার্মিনেটর ও কমান্ডোর মতো সিনেমাগুলোর মাধ্যমে স্ট্যালোনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন শোয়ার্জনেগার। স্ট্যালোনের মতে, তারা ছিলেন মোহাম্মদ আলী ও জো ফ্রেজিয়ারের মতো মহান যোদ্ধা, যারা একই পথে ভ্রমণ করেছেন। তাদের মধ্যে একজনের জন্যই জায়গা ছিল।
যদিও তারা দুজনই অ্যাকশন তারকা ছিলেন, স্ট্যালোন শোয়ার্জনেগারকে এই বলে এগিয়ে দেন, ‘তিনি শীর্ষে ছিলেন। তার কাছে সব সুযোগ ও প্রতিভা ছিল। তার দারুণ শরীর ছিল, শক্তি ছিল। এটাই ছিল তার চরিত্র।’
ক্যারিয়ারে নানা সময় পিছিয়ে পড়েছেন স্ট্যালোন। তিনি বলেন, ‘আমাকে ক্রমাগত পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল, যেখানে আর্নল্ড কখনই সে রকম পরিস্থিতিতে পড়েননি। আমি আর্নল্ডকে উদ্দেশ করে বলতে পারি যে তুমি ড্রাগনের সঙ্গে লড়াই করে একটা ব্যান্ড-এইড লাগানোর মতো আঘাতটুকুই পাবে।’
শোয়ার্জনেগারও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন। তিনি বলেন, ‘স্ট্যালোন না থাকলে, আমি হয়তো আশির দশকে অ্যাকশন সিনেমা করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত হতাম না।’
সূত্র: ডেডলাইন










