ক্যান্সারকে পরাজিত করে ভালোভাবেই বড় পর্দায় ফিরেছেন সঞ্জয় দত্ত। বছরের মাঝামাঝি মুক্তি পাবে আলোচিত ছবি কেজিএফ চ্যাপ্টার টু। ছবিতে মুখ্য খলচরিত্র আধীরার ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। সম্প্রতি স্ত্রী মান্যতাকে শতকোটি রুপির চারটি ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সঞ্জয়। কিন্তু উপহার দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মান্যতা আবার সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। যদিও মান্যতা কেন এ ফ্ল্যাটগুলো ফিরিয়ে দিলেন সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই গণমাধ্যম ও ভক্তদের কৌতূহল আরো বেড়েছে।

মুম্বাইয়ের ব্রান্দ্রার পালি হিলে চারটি ফ্ল্যাট আছে সঞ্জয় দত্তের। এটা শহরের ধনী, সেলিব্রেটিদের আবাসস্থল। সঞ্জয় ফ্ল্যাটগুলো মান্যতাকে উপহার দিয়েছিলেন গত বছর ডিসেম্বরে। ভারতীয় একটি গণমাধ্যম জানাচ্ছে উপহার চুক্তিপত্র অনুসারে ফ্ল্যাটগুলোর মূল্য দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ৫০ লাখ রুপি। কিন্তু প্রোপার্টি ব্রোকারদের মতে, এগুলোর দাম ১০০ কোটি রুপির বেশি।

অ্যাপার্টমেন্টগুলো পালি হিলসের ইম্পেরিয়াল হাইটস বিল্ডিংয়ে। মুম্বাইয়ের বড় ধনীরাই এখানে থাকেন। ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দুটো ফ্ল্যাট এবং একই ভবনে আরো দুটো পেন্টহাউজ সঞ্জয়ের। ফ্ল্যাটগুলোর জন্য ১৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে।

দুটো গিফট ডিডের মাধ্যমে সঞ্জয় দত্ত স্ত্রীকে এ চারটি ফ্ল্যাট উপহার দেন। এর মধ্যে একটিতে মান্যতা ও অন্যটিতে দিলনাশি দত্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মান্যতার আসল নাম দিলনাশি।

প্রথম গিফট ডিড করা হয়েছে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর। কিন্তু কয়েক দিন পরই ২৯ ডিসেম্বর মান্যতা আবার সেগুলো সঞ্জয়কে উল্টো উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ইম্পেরিয়াল হাইটস ভবনটি নির্মাণ করছেন মুম্বাইয়ের সিরাজ লোখান্ডওয়ালার মালিকানাধীন লোখান্ডওয়ালা কনস্ট্রাকশন। ভবনটি নির্মিত হয়েছে সঞ্জয় দত্তের বাবা সুনীল দত্তের জমিতে। আর সঞ্জয় দত্ত অ্যাপার্টমেন্ট চারটি পেয়েছেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি থেকে ডেভেলপমেন্ট শেয়ারের অংশ হিসেবে। ইম্পেরিয়াল হাইটস ভবনটি নির্মিত হয়েছে ২০০২ সালে।

অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মাসিক ভাড়া প্রায় ৫-৭ লাখ রুপি। যে প্রশ্নটি সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে—কেন মান্যতা সঞ্জয়ের উপহার ফিরিয়ে দিলেন। ভারতীয় লিগাল ও ট্যাক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি উপহার দেয়াটা সাধারণ চর্চা। কিন্তু ফিরিয়ে দেয়াটা সচরাচর দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে ট্যাক্স রিকনস্ট্রাক্ট করতেই মান্যতা উপহার ফিরিয়ে দিয়েছেন।

 

সূত্র: ডিএনএ ও মানিকন্ট্রোল