কলকাতার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। স্বাভাবিকভাবেই পূজায় সবচেয়ে বেশি সিনেমা মুক্তি পায়। কভিডের পর সিনেমার বাজার পড়তি ছিল এবং তা এখনো আছে। তবে এ বছর দুর্গা পূজায় মুক্তি পাওয়া সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ ও সিনেমার প্রতিক্রিয়া বেশ ভালোই। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো দেখতে বেশ দর্শক সমাগম হয়েছে। কিন্তু সে হিসাবে লাভ খুব বেশি হয়নি।

এ বছর পূজায় মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত টেক্কা, নন্দিতা-শিবপ্রসাদের বহুরূপী, পথিকৃৎ বসুর শাস্ত্রী। আনন্দবাজার একজন পরিবেশকের বরাতে জানিয়েছে এক সপ্তাহে ‘টেক্কা’র আয় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অন্যদিকে ‘বহুরূপী’ আয় করেছে ৩ কোটি রুপি ও ‘শাস্ত্রী’ ৮০ লাখ রুপি। খুব একটা ভালো বলা যায় না এ পরিস্থিতি।

অন্যদিকে বাংলা সিনেমার সঙ্গে দুটো হিন্দি সিনেমাও মুক্তি পেয়েছে। ছিল আলিয়া ভাটের ‘জিগরা’ ও রাজকুমার রাওয়ের ‘ভিকি বিদ্যা কা উও ওয়ালা ভিডিও’। এ দুটি সিনেমার প্রতিটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক সপ্তাহে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে।

বলিউডের সিনেমা ১০০ কোটির ক্লাব পার করে এখন ৫০০ না হলেও অন্তত ৩০০ কোটির ক্লাব নিয়ে আগ্রহ দেখায়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ১০ কোটি রুপিও আয় করতে পারছে না। সৃজিত মুখোপাধ্যায় আনন্দবাজারকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাজেট কম হওয়ায় বক্স অফিস ও স্যাটেলাইট থেকে তার টেক্কা খরচের তুলনায় ২ কোটি রুপি বেশি আয় করেছে। তিনি তাই সিনেমাকে ব্লকবাস্টার বলতে চান।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একটি গণমাধ্যম হিসাব দিয়েছে নবমীর সকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বহুরূপীর টিকিট বিক্রি ২৩ হাজার অতিক্রম করে গিয়েছিল। সেখানে একদিনে টেক্কার টিকিট বিক্রি হয়েছিল ১৪ হাজারের কিছু বেশি। মঙ্গলবার দেখা গেছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় বহুরূপীর টিকিট বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১১ হাজার।

দক্ষিণ ভারতের অনেক ফ্লপ সিনেমাও ৭-৮ কোটি রুপি আয় করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ তা পারে না। এর কারণ হিসেবে আনন্দবাজারকে এক প্রযোজক বলেন, ‘দক্ষিণে ১ হাজার ২০০টি স্ক্রিন। কলকাতায় ১১২টি। এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে কেন একটি দক্ষিণী আর্ট ফিল্ম ৭ কোটি টাকা আয় করে, বাংলা ছবি ৫ কোটি।’

এছাড়া কলকাতার অনেক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মোটের ওপর এসব স্ক্রিন না থাকায় সিনেমা চলছে কম। ব্যবসাও হচ্ছে তেমন হচ্ছে না। কলকাতার অনেক নির্মাতার মতে, সিনেমার মানের চেয়েও সিনেমা নিয়ে যে কালচার এখন হয়েছে, তা-ই এত কম আয় করার কারণ।