দেশের বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখ দীপান্বিতা মার্টিন। দুই যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। মঞ্চ দিয়ে অভিনয় শুরু করেন, পরে ছোট পর্দা ও বড় পর্দা দুই জায়গায়ই সমান তালে কাজ করেছেন। বর্তমান সময়ে সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ত এ অভিনেত্রী। ওটিটি প্লাটফর্মেও পরিচিত মুখ তিনি। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আছে এ অভিনেত্রীর ঝুলিতে। শুক্রবার ছিল দীপান্বিতা মার্টিনের জন্মদিন। বর্তমানে তার ব্যস্ততা ও জন্মদিন নিয়ে কথা হয় এ অভিনেত্রীর সঙ্গে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা দেয়ার পর জানতে চাই কেমন গেল তার বিশেষ দিন। অভিনেত্রী স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘সকাল থেকেই কাছের মানুষের শুভেচ্ছা পাচ্ছি। সারা দিন অনেক স্পিরিচুয়াল গেল। মেডিটেশনের একটা চারদিনের কোর্স করছি আমি। জন্মদিনে এটা শুরু করলাম। টানা ১০ ঘণ্টা মেডিটেশনের মধ্যে ছিলাম। খুব সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা হলো আমার। ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা।’

মেডিটেশনের প্রসঙ্গ আসতেই জানতে চাই ব্যস্ত জীবনে, বিশেষ করে তারকাদের জন্য মেডিটেশন কি জরুরি? প্রশ্নের জবাবে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘‌আমার কাছে মনে হয় এ সময়ে এসে আমরা সবাই নানা বিষয়ে বিক্ষিপ্ত থাকি। তাই কেবল তারকাদের জন্য নয় যেকোনো পেশার মানুষের জন্য মেডিটেশন ও স্পিরিচুয়াল বিষয়গুলো খুব দরকারি। মেডিটেশন দিয়ে তো আমরা শিখি আমরা নিজের মনকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। অভিনয়ের ক্ষেত্রে যেটা হয় যে আমি যখন মন দিয়ে কোনো কাজ করতে চাই, তখন নিজের মনটা নিয়ন্ত্রণ করাটা খুব দরকার। একটা চরিত্র থেকে অন্য একটা চরিত্রে যাওয়ার জন্য মন শান্ত রাখতে হয়। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্ট্রেস ফ্রি থাকলে অভিনয় করাটা সহজ হয়ে যায়। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা কিংবা বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে যেকোনো কাজ করাটাই কষ্টকর। তাই যখন নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশলগুলো জানি, তখন কাজটা অনেক সহজ হয়। এছাড়া কাজ থেকেও কিন্তু স্ট্রেস হয়। এ স্ট্রেস কাটাতে মেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। আমাদের ব্যস্ত জীবনে নিজেকে একটু সময় দিলে অনেক কিছু কিন্তু সহজ হয়ে যায়।’ 

বর্তমানে অভিনয়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে জানতে চাইলে দীপান্বিতা মার্টিন বলেন, ‘‌গত মাসেই চ্যানেল আইতে ‘‌পায়ের তলায় মাটি নাই’ সিনেমাটার ওয়ার্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার হলো। এ মাসের শুরুতেই চরকিতে মুক্তি পেল ‘‌পাতালঘর’ সিনেমাটা। আর এখন একটা সিনেমার বিষয়ে কথা চলছে। যেহেতু আমি এখনো এটা নিশ্চিত হইনি, তাই এখনই আমি এটা নিয়ে কিছু বলতে চাইছি না। তবে সিনেমাটার গল্প আমার পছন্দ হয়েছে। এ মাসের শেষ দিকেই সিনেমাটার বিষয়ে ফাইনালি জানতে পারব। আশা করছি কাজটা করব।’

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী যখন ছিলেন তখন মঞ্চে অভিষেক আপনার। এ লম্বা অভিনয় জীবনে আপনার এমন কোনো চরিত্র রয়েছে যা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লেগেছে, এ প্রশ্নের জবাবে দীপান্বিতা মার্টিন বলেন, ‘‌একটা চরিত্র থেকে বের হয়ে আসা অনেকটা প্রেমের বিচ্ছেদ হওয়ার মতো কষ্ট। আমার অনেক সময় লাগে চরিত্র থেকে বের হতে। একটা টেলিভিশন নাটকের জন্য একজন অটিস্টিক মানুষের চরিত্রে একবার অভিনয় করেছিলাম। ওই চরিত্রটা থেকে বের হতে আমার কমপক্ষে দুই মাস লেগেছে। দেখা যাচ্ছিল যে আমি বাস্তব জীবনেও ওভাবেই ব্যবহার করছিলাম। অনেক মানুষ বলে যে ভালো পরিচালকের কাজ করি বলেই আমি ভালো করি। কিন্তু আসলে ভালো পরিচালকদের কাজ করা আরো কঠিন। কারণ তাদের কোনোভাবে ফাঁকি দিয়ে কাজ করা যায় না। আমি চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছি বলেই কিন্তু প্রশংসা আসে।’

গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘গোর’ সিনেমার জন্য ২০২০ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন দীপান্বিতা মার্টিন। গত বছর প্রশংসিত ওয়েব সিরিজ ‘‌কাইজার’-এ অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। চলতি বছরও পায়ের তলায় মাটি নাই ও পাতাল ঘর সিনেমা দুটি নিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন এ অভিনেত্রী। এছাড়াও মুক্তির অপেক্ষায় আছে দীপান্বিতার ‘‌মানুষের বাগান’ সিনেমাটি।