টড ফিলিপসের জোকার নিয়ে এসেছে নতুন খবর। সিনেমায় থাকছে প্রায় ১৫টির মতো গান। এর মধ্যে কিছু হবে কভার ও বাকিগুলো অরিজিনাল ট্র্যাক। কিন্তু সিনেমায় মোট কতগুলো মৌলিক গান থাকবে তা এখনো জানানো হয়নি। এত গান থাকা সিনেমাটিকে মিউজিক্যালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন দর্শক ও সিনেমা বিশ্লেষকরা। কেননা মিউজিক্যাল ছাড়া সিনেমায় এত গান থাকে না। 

১৫টি গান কী কী হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউই নিশ্চিত করতে পারছেন না গানের বিস্তারিত। তবে ভ্যারাইটি বলছে, একটি গান হতে যাচ্ছে ১৯৫৩ সালের মিউজিক্যাল সিনেমা ‘দ্য ব্যান্ড ওয়াগন’-এর ‘‌দ্যাটস এন্টারটেইনমেন্ট’। গানটি জুডি গারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। মূলত সিনেমার শুরুতে এ গান নিয়ে কাজ করেছেন নির্মাতা। তবে এটি নতুন করে তৈরি করা হতে পারে, এমন কথাও বলছে ভ্যারাইটি। লেডি গাগার গলায় মৌলিক গান থাকার সম্ভাবনা আছে। কেননা তিনি স্টুডিওতে রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে জোকারের ছবি পোস্ট করেছিলেন।

টড ফিলিপস তার সিনেমাটি নিয়ে নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। সিনেমায় নানা ধরনের গান থাকলে তা দর্শকের কাছে ভিন্ন প্রকার আবেদন নিয়ে হাজির হবে। এর মধ্যেই জোকার নিয়ে দর্শকের মধ্যে আলোচনার অন্ত নেই। তার সঙ্গে আরেকটি বিষয় যোগ হলে তা সিনেমার জন্য ভালো বৈ মন্দ হবে না। এ সময় সিনেমার পরিচালক টড আছেন সিনেমার এডিটিংয়ে। তবে দ্য হলিউড রিপোর্টার মনে করে, ফিলিপস তার সিনেমায় যেকোনো সময় নতুন কিছু যুক্ত করতে পারেন। তার মনে হলে গানের জন্য নতুন করে শুটও করতে পারেন। তবে সে রকম সম্ভবত কিছু করবেন না।

‘‌জোকার: ফোলি আ দ্যু’ আরখামের গল্প হতে যাচ্ছে। জোকার আরখামে প্রবেশ করে সেখানকার অন্য বাসিন্দাদের কী প্রকার প্রভাবিত করে সে গল্প বলবেন ফিলিপস, এমন একটি পূ্র্বাভাস দেয়া হয়েছিল। হার্লে কুইনের সংযুক্তিও সিনেমায় সে কারণেই। এবার জোকারকেও ফিলিপস হাজির করবেন অন্যভাবে। তার প্রমাণ মাঝে মাঝেই প্রকাশ করছেন পরিচালক।

ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশ হয়েছিল জোকার সিনেমার কয়েকটি ছবি। এতে রোমান্টিক সিচুয়েশনে দেখা গেছে জোয়াকিন ফিনিক্স ও লেডি গাগাকে। তিনটি ছবির একটি রঙিন ও দুটি সাদাকালো। একটি ছবিতে লাল কোট পরা জোকারকে দেখা যায়। তার মুখে রঙ মাখানো। হার্লে কুইনের গায়ে ফ্লোরাল জামা। তারা ঘুরে তাকিয়েছেন ক্যামেরার দিকে। একটি ছবিতে দেখা যায় জোকার ও হার্লে কুইন একটি মঞ্চে নাচের মুদ্রায় আছেন। তাদের পেছনে লোকালয়ের একটি দৃশ্যপট। জোকার ও হার্লে কুইন মগ্ন নিজেদের মধ্যে। আরেকটি ছবিতে তাদের খুবই অন্তরঙ্গভাবে দেখা গেছে। একজন আরেকজনের মুখোমুখি এবং দুজনের মুখেই হাসি।

এদিকে সিনেমার বাজেট বেড়েছে হুহু করে। এখন জোকারের মোট খরচ উঠেছে ২০ কোটি ডলারে। শুরুতে এর দুই-তৃতীয়াংশ খরচে সিনেমা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। জোকার প্রথম পর্ব বানাতে খরচ হয়েছিল মাত্র ৬ কোটি ডলার। সিকুয়ালে খরচ হচ্ছে এর তিন গুণের বেশি। অবশ্য কারণও আছে। লেডি গাগাকে যুক্ত করা, জোয়াকিনের জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণে পারিশ্রমিক বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ।

জোকার প্রথম পর্ব ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পেয়েছিল গোল্ডেন লায়ন। এছাড়া বক্স অফিসে আয় করেছিল ১০০ কোটি ডলারের বেশি। এর বাইরে অস্কারে পেয়েছিল ১১টি মনোনয়ন। এবার লেডি গাগার গলায় গান থাকলে সিনেমাটি অস্কারে সেরা মৌলিক গানের পুরস্কার জিতবে বলেই মনে করে ডেডলাইন।

সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার