২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের। এরপর ‘হাউসফুল’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, ‘মার্ডার ২’, ‘কিক’, ‘জুড়ুয়া ২’-সহ ৪০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অথচ শুরুতে অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না—চেয়েছিলেন সাংবাদিক হতে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা শেষে শ্রীলঙ্কায় ফিরে টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৬ সালে ‘মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কা’ খেতাব জেতেন তিনি। কিন্তু এরও আগে, ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া একটি সিনেমা বদলে দিয়েছিল তাঁর স্বপ্নের দিকচিত্র—সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’। শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের চোখধাঁধানো উপস্থিতি এবং পরিচালকের সৃজনশীলতা জ্যাকলিনকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই থেকেই বলিউডে নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।
আজও সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে কাজ করা তাঁর অন্যতম অপূর্ণ স্বপ্ন। জন্মদিনের (১১ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকলিন বলেন,
‘আমি দুচোখ ভরে বানসালির কাজ দেখেছিলাম এবং মনে মনে বলেছিলাম—এটাও কি সম্ভব! তাঁর ছবির জগৎ ছিল স্বপ্নের মতো সুন্দর। সত্যি বলতে, আমি সব সময় তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। “দেবদাস” আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’
১৯৮৫ সালের ১১ আগস্ট বাহরাইনে জন্ম জ্যাকলিনের। শ্রীলঙ্কান সুরকার এলরয় ফার্নান্দেজ ও মালয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত সাবেক বিমানসেবা কর্মকর্তা কিমের কন্যা তিনি। শৈশব কেটেছে বহুভাষিক পরিবেশে—সিংহলি, আরবি, ফারসি, হিন্দি ও ইংরেজিতে সাবলীল হয়ে ওঠেন।
বলিউডে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যবসাতেও তিনি সমান দক্ষ। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে তাঁর ব্যক্তিগত একটি দ্বীপ রয়েছে, যা কুমার সাঙ্গাকারার দ্বীপের কাছাকাছি। রয়েছে একটি রেস্তোরাঁর মালিকানাও। ব্যক্তিগত জীবনে বাহরাইনের যুবরাজ বিন রশিদ অল খালিফা ও বলিউড তারকা সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেছে, যদিও তা স্থায়ী হয়নি।









