রকি ফিল্ম সিরিজের প্রথম চারটিতেই ছিলেন ‘অ্যাপোলো ক্রিড’ চরিত্রে। উপহার দিয়েছেন প্রেডেটরের মতো সিনেমা ও দ্য ম্যান্ডালরিয়নের মতো সিরিজ। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি হলিউড ক্যারিয়ারে তার নামের পাশে ৭৫টির বেশি সিনেমা ও টিভি শো। বিশ্বজুড়ে অ্যাকশন ও কমেডি ভক্তদের সে প্রিয়মুখ কার্ল ওয়েদার্স চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ৭৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন এ কিংবদন্তি।
ওয়েদার্স জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালে নিউ অরলিন্সে। সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে থাকা অবস্থায়ই তার অ্যাথলেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ। যদিও তিনি পড়াশোনা করতেন থিয়েটার অ্যাকটিং নিয়ে। ১৯৭০ সালে ওয়েদার্স অকল্যান্ড রাইডার্সে যোগ দেন। অ্যাথলেট হিসেবে সফল ক্যারিয়ারের মাঝপথেই ১৯৭৪ সালে ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পা রাখেন হলিউডে। মূলত অ্যাকশন ও কমেডি ঘরানার সিনেমার প্রতি তার আকর্ষণ ছিল শুরুতেই। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, অ্যাডাম স্যান্ডলার ও জেসি ভেনচারার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এমনকি মাইকেল জ্যাকসনের লাইবেরিয়ান গানের ভিডিওতেও তাকে দেখা যায়। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেডেটর’ চলচ্চিত্রে তার সহকর্মী আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) ওয়েদার্সকে স্মরণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ওয়েদার্স সবসময়ই একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন। দুর্দান্ত একজন ক্রীড়াবিদ, দক্ষ অভিনেতা ও চমৎকার মানুষ। তিনি না থাকলে আমরা প্রেডেটর বানাতে পারতাম না।’
২০২১ সালে ওয়েদার্স ডিজনি প্লাসের সিরিজ দ্য ম্যান্ডালরিয়নে অভিনয়ের সূত্রে এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এছাড়া সায়েন্স ফিকশন স্টার ওয়ার্স সিরিজের দুটি অ্যাপিসোড তিনি পরিচালনা করেছেন। এর বাইরে তাকে দেখা যায় অ্যাকশন জ্যাকসন, ক্লোজ এনকাউন্টার্স অব দ্য থার্ড কাইন্ড, এইট ক্রেজি নাইটস, লিটল নিকি ও টয় স্টোরির মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়েই গত বছর তিনি ডেট্রয়েট নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ভাগ্যবান মানুষ বলে দাবি করেন। ওয়েদার্সের মতে, তিনি সামনে অনুসরণ করার মতো অনেক সফল ব্যক্তিকে উদাহরণ হিসেবে পেয়েছেন। তিনি নিজেও আশাবাদী, পরবর্তী প্রজন্ম তার মধ্যে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবে। হলিউড অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ অ্যাডাম স্যান্ডলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘একজন সত্যিকার মহৎ মানুষ, অভিনেতা ও ক্রীড়াবিদ। তার পরিবারের জন্য ভালোবাসা।’
সূত্র: বিবিসি










