বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘পদাতিক’। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ওপার বাংলার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। সিনেমাটিতে মৃণাল সেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ২ জুলাই সন্ধ্যায় পরিচালক সৃজিত মুখার্জি একটি পোস্টার শেয়ার করে জানান, আগামী আগস্টে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। মুক্তির জন্য বেছে নেয়া হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ ১৫ আগস্টকে। এর আগে ১৪ মে পদাতিক সিনেমার ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের টিজার প্রকাশিত হয়। ২০২৩ সালে মৃণাল সেনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল সৃজিতের সিনেমাটি। এবার জানা গেল সিনেমাটি বাংলাদেশ ও  ভারতে একসঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

পদাতিক সিনেমাটি বাংলাদেশে আমদানি করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আব্দুল আজিজ গণমাধ্যমকে জানান, ‘ভারতের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশেও মুক্তি পাবে পদাতিক। সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চূড়ান্ত হয়েছে। পদাতিক আমদানির জন্য এরই মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই প্রয়োজনীয় অনুমতি পেয়ে যাব।’

পদাতিক প্রযোজনা করেছে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। এর আগে এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ‘হুব্বা’ সিনেমাটিও বাংলাদেশে আমদানি করেছিল জাজ। হুগলির ডনখ্যাত হুব্বা শ্যামলকে নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেন ব্রাত্য বসু। নাম ভূমিকায় ছিলেন বাংলাদেশের মোশাররফ করিম। পদাতিকে মৃণাল সেনের যুবক ও বয়স্ক দুই চরিত্রে দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে। নির্মাতার কিশোর বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোরক সামন্ত। মৃণালের এ বায়োপিকে মৃণালের স্ত্রী গীতা সেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মনামী ঘোষ। পুত্র কুণাল সেনের চরিত্রে আছেন সম্রাট চক্রবর্তী।

সিনেমাটির পোস্টার ও টিজারে চঞ্চল চৌধুরীর চেহারা দেখে অনেকেই আশ্চর্য হয়েছেন, এটা কি চঞ্চল নাকি মৃণাল সেন। পোস্টারে চঞ্চলের দুটি সময়ের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এ দুটো ছবির পাশে আরেক অভিনেতার ছবি থাকলেও অনুমান করা যায় সেটি মৃণাল সেনের ছোটবেলার চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সিনেমাটিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে কিছুদিন আগে চঞ্চল চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেছিলেন, ‘পদাতিক মৃণাল সেনের বায়োপিক। এটা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়। একজন বিখ্যাত নির্মাতার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত সিনেমা পদাতিক। এটা হয়তো ইতিহাসে থেকে যাবে। আমার ভালো লাগার জায়গাটা হচ্ছে মৃণাল সেনের মতো বড় মাপের নির্মাতার চরিত্রে অভিনয় করতে পারা। পাশাপাশি কলকাতার সৃজিত মুখার্জি আমাকে এ চরিত্র করার জন্য বাছাই করেছেন। যেখানে আরো অনেক শিল্পী, অভিনেতা ছিল অথবা পুরো ভারতেও অনেক অভিনেতা ছিল, যাদের এ চরিত্রে নিতে পারতেন তিনি। সেখানে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে এ চরিত্রে আমি নির্বাচিত হয়েছি।’

সিনেমাটি নিয়ে দুই বাংলার দর্শকের মধ্যেই আছে কৌতূহল। একে তো মৃণাল সেনের বায়োপিক, তাতে আবার চঞ্চল চৌধুরী অভিনেতা। সিনেমাটি দেশে এলে দর্শক খুশিই হবে। এখন অপেক্ষার পালা।