বয়স মাত্র ৪৯ বছর। ভারতের সিনেমার ক্যারিয়ারে খুব বেশি কিছু নয়। কেননা বলিউডে অমিতাভ বচ্চন, দক্ষিণে কমল হাসান, রজনীকান্তরা এখনো দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সেরা সময়টায়ই অভিনয় ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন থালাপতি বিজয়। কেননা তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনীতি করবেন। নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণাও দিয়েছেন শুক্রবার। তিনি রাজনীতিতে আসবেন সে কথা আরো আগেই প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু এত দ্রুত আসবেন তা অনেকেই ভাবেননি। বিশেষত এ সময় ক্যারিয়ারের সেরা। কিন্তু সেখানেই যতি টানতে চান বিজয়। স্বাভাবিকভাবেই ভাবনা জাগে, সিনেমার মতো রাজনীতিতেও সফল হবেন কিনা বিজয়।
দক্ষিণের বহু তারকাই সিনেমা থেকে রাজনীতিতে গেছেন। প্রথমেই নাম করা যায় এমজি রামচন্দ্রনের। এমজিআর নামে পরিচিত এ অভিনেতা চলচ্চিত্রে এসেছিলেন ত্রিশের দশকে। সেখানে যেমন জনপ্রিয় তেমনি রাজনীতিতেও পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। তামিলনাড়ুতে একসময় তিনি পরিণত হন দেবতায়। এরপর নাম নেয়া যায় জয়াললিতার। তিনিও অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিতে গিয়ে দারুণ সফল। কিন্তু সবাই সফল হবে বা হয়েছে এমন নয়। তামিলের জনপ্রিয়তম অভিনেতা রজনীকান্ত সাফল্য পাননি। রাজনীতিতে তিনিও গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে রাজনীতিবিদ হিসেবে গ্রহণ করেনি জনতা। বলিউডে অমিতাভ বচ্চনের প্রায় লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল।
বিজয়কে তামিলনাড়ুতে বলা হয় থালাপতি, যার অর্থ নেতা। তিনি কেবল অভিনেতা হিসেবেই নন, জনগণের প্রিয় নেতা হিসেবেও অনেকটা গৃহীত। বিজয় নানা ধরনের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গেও জড়িত। তিনি বহুদিন ধরে তামিলনাড়ুর তৃণমূলে কাজ করে সেখানকার মানুষ, ভূমি ও রাজনীতিকে দেখেছেন। তিনি হিসাব করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনীতিতে আসার। এছাড়া খুব খেয়াল করে লক্ষ করলে দেখা যাবে, বিজয়ের সিনেমার মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা থাকে। তিনি সিনেমার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে তার দর্শকের কাছে রাজনীতির কিছু পাঠ প্রকাশ করেছেন।
বিজয় শুক্রবার তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে থাকা দুর্নীতি ও অন্যান্য বিষয়ের বিরুদ্ধে তিনি কাজ করতে চান। কেবল একটি কাল্ট চরিত্রই নন, নিজেকে নিয়ে যেতে চান সাধারণ মানুষের খুব ভেতরে এবং তাদের মধ্যে কাজ করতে চান।
তামিলাগা ভেট্রি কায়াগম (তামিলনাড়ু ভিক্টোরি ফেডারেশন) নামে দল শুরু করেছেন বিজয়। তামিলনাড়ুর বেশকিছু নির্বাচনী আসনে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন তার দলের কর্মীরা। ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে এগোচ্ছেন তিনি। তার দলের এক সদস্য ইন্ডিয়া টুডেকে জানান, বিজয় তার ভক্তদের নিজের দলের হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাবেন।
তাহলে বিজয় কি অভিনয় পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন? আপাতদৃষ্টিতে সে রকমই মনে হচ্ছে। গ্রেটেস্ট অব অল টাইমের পর আরেকটি সিনেমা করে অভিনয়জীবনকে বিদায় জানাবেন তিনি, এমনটাই বলা হচ্ছে। অবশ্য লোকেশ কনগরাজ ইউনিভার্সের জন্য ফিরতে পারেন, এমনও মনে করছেন অনেকে। কিন্তু রাজনীতিতে যে বিজয় কোমর বেঁধে নামছেন, তাতে আর কারো সন্দেহ নেই। সফল হওয়ার অংক তিনি কষেই নিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে










